blog

হাত ও পায়ের নখের যত্ন

হাতের সৌন্দর্যের অন্যতম একটি অংশ হলো নখ।নখ যদি সুন্দর হয় তাহলে হাতের সৌন্দর্য বেড়ে যায় দশগুণ। নখ কেরাটিন নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। হাতের নখ পায়ের নখের চেয়ে দ্রুত বাড়ে। নেল পলিশ বা নেল আর্ট যেটাই করুন না কেন নখ যদি সুন্দর না হয় তবে কোনো কিছুই ভালো লাগে না।

অলিভ অয়েলঃ

নখ ময়শ্চারাইজ করতে অলিভ অয়েলের জুড়ি মেলা ভার। এটি নখের যত্নে অনেক ভালো কাজ করে ।

এটি ত্বক ও নখের গভীরে প্রবেশ করে এর বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কাজ করে।

অলিভ অয়েল হালকা গরম করে নিন, এবার নখে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন। সুতির হাত মোজা পরে ঘুমাতে যাবেন।

এটি প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ব্যাবহার করুন। তবে প্রতিদিন করলে বেশি ভাল। এটি রাতে করবেন।

হালকা কুসুম কুসুম গরম অলিভ অয়েল এ হাতের নখ (১৫-৩০) মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এবং এটি প্রতিদিন করবেন।

লেবুর রসঃ

লেবুর রসে ভিটামিন সি থাকে। নখ বৃদ্ধি করতে ভিটামিন সি খুব ভাল সাহায্য করে। এটি নখের হলুদ হলুদ বা হলদেটে দাগও দূর করে ।

১ টেবিল চামচ লেবুর রস+ ৩ টেবিল চাচম অলিভ অয়েল মিশিয়ে হালকা গরম করুন। হাতের নখ ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এছাড়াও এক টুকরা লেবু নিয়ে নখে ৫ মিনিট ঘষুন ।

এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এটি দিনে একবার করুন। ফলাফল ,আপনি কিছুদিনের মধ্যে নখের বৃদ্ধি দেখতে পাবেন।

নারকেল তেলঃ

নখের বৃদ্ধিতে নারকেল তেল এর কার্যকরিতা বেশি। এটি নখ ময়শ্চারাইজ করার ও সাথে সাথে নখ মজবুতও করে ।

নখে কোনো ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়াল সমস্যা থাকলে তাও দূর করে। নারকেল তেল হালকা গরম করে নখ ম্যাসাজ করুন।সারারাত এভাবে রেখে দিন ও সকালে ধুয়ে ফেলুন।

(১/৪ কাপ নারকেল তেল + ১/৪ কাপ মধু + ৪ ফোঁটা রোজমেরি অয়েল) দিয়ে মিশিয়ে নিন। ২০ মিনিট গরম করতে হবে। হাতের নখ ১৫ মিনিট এই ভাবে ভিজিয়ে রাখুন। সপ্তাহে ২-৩ বার করে করুন।

ময়লা দূর করতেঃ

কুসুম কুসুম গরম পানিতে সামান্য শ্যাম্পু , লেবু ,লবণ মিশিয়ে নখ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর নরম ব্রাশ দিয়ে নখ এবং চারপাশ ভালভাবে ঘষে নিন। এতে করে মৃত কোষ ও জমে থাকা ময়লা উঠে যাবে।

ভাঙন বন্ধ উপায়:

সঠিকভাবে ফাইল করা খুব জরুরি এর জন্য। প্রতিবার ফাইল করার সময় একইভাবে এবং একই দিকে নখ ফাইল করতে হবে।

ধাতব ফাইলার এড়িয়ে চলাই ভালো সবসময়। গোসল বা হাত ভেজানোর পর নখ ফাইল করা একদম উচিত নয়। কারণ এই সময় নখ নরম থাকে।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নখে পেট্রোলিয়াম জেলি এবং অলিভ অয়েল মালিশ করলে নখ শক্ত হয়।

আবার যাদের নখ বেশি নরম তারা রাতে ঘুমানোর আগে পুরু বা মোটা করে পেট্রোলিয়াম জেলি মালিশ করে হাত মোজা পরে ঘুমাবেন। এতে করে নখ শক্ত হবে।

তাছাড়া নখ কখনও অতিরিক্ত বড় রাখা ঠিক না। এতে করে নখ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে

নেইলপলিশ এ সর্তকতা:

নেইলপলিশ দিয়ে নখ রাঙাতে কে না পছন্দ করে। তবে কিছু দিনের বিরতিতে নেইলপলিশ লাগানো উচিত।

এতে করে নখ ভালকরে শ্বাস নিতে পারে। এজন্য একবার নেইলপলিশ ওঠানোর পর অন্তত দুদিন পর আবার লাগাতে হবে।

এবং অবশ্যই ভালো মানের ও ভালো ব্র্যান্ডের নেইলপলিশ ব্যাবহার করা উচিত।

কারণ সস্তা বা দামে কম নেইলপলিশে সিসা থাকে। সীসা যা নখের জন্য ক্ষতিকর।

পেডিকিউর ও ম্যানিকিওর:

প্রতি মাসে ৩/৪ বার নখের যত্নে পেডিকিউর,ম্যানিকিওর করা দরকার।

অনেকের পার্লারে গিয়ে পেডিকিউর করার সময় হয়ে উঠে না।

তাই এখন বাজারে বিভিন্ন সেট পাওয়া যায় এবং তা ব্যবহার করে ঘরেই হাত ও নখের যত্ন নেওয়া সম্ভব।

নখের ভেতরের যত্ন:

শুধু বাইরের যত্ন করলেই নয়, ভেতর থেকে যত্ন নিতে ভিটামিন খেতে হবে।

ভিটামিন বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে।

অনেক সময় পুষ্টির অভাবেও নখ ভেঙে যায়। খাদ্য তালিকায় সব ধরনেরই খাবার থাকতে হবে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: