blog

থ্যালাসেমিয়া রোগে কী হয়

থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অনেক কম থাকে এবং লোহিত রক্তকণিকা আকারে খুব ছোট হতে পারে। আর এ রোগটি হলে তার প্রভাব হালকা থেকে শুরু করে অনেক গুরুতর ও প্রাণঘাতী পর্যন্ত হতে পারে।

বছরে প্রায় এক লাখ নবজাতক গুরুতর থ্যালাসেমিয়াসহ নিয়ে থাকে। আর এটি ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো যেমন— মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোয় এ সমস্যা বেশি থাকলেও গ্লোবালাইজেশনের কারণে এখন পৃথিবীর সব দেশেই এ রোগী পাওয়া যায়।

থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ থ্যালাসেমিয়া রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বিটা থ্যালাসেমিয়া এবং কিছু ধরনের আলফা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর মধ্যে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে এর পরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আসুন জেনে নিই থ্যালাসেমিয়া হলে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

১. জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণে শিশুদের জন্ডিস হতে পারে এবং তাদের ত্বক ফ্যাকাশে দেখাতে পারে.।

২. তন্দ্রা ও ক্লান্তি
থ্যালাসেমিয়া হলে অনেক বেশি পরিমাণে তন্দ্রা লেগে থাকা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

৩. বুকে ব্যথা
থ্যালাসেমিয়ার কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।

৪. হাত পা ঠণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৬. থ্যালাসেমিয়ার কারণে পায়ে ক্রাম্প হতে পারে।

৭. থ্যালাসেমিয়া হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

৮. অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া হলে শিশুরা আর খেতে চায় না বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে।

৯. থ্যালাসেমিয়ার কারণে শিশুদের বৃদ্ধিতে বিলম্ব দেখা দিতে পারে বা শিশুরা ঠিক মতো বেড়ে ওঠে না।

১০. অনেক সময় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

১১. মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১২. ইনফেকশন বা সংক্রমণে সহজেই প্রভাবিত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: