blog

চায়ে তেজপাতা দিয়ে খেলে পাবেন একাধিক স্বাস্থ্যকর উপকার.

ওজন কমানো থেকে শুরু করে স্ট্রেস কমানো সব কিছুর মধ্যেই তেজপাতার একটা বিশেষ অবদান রয়েছে। তাই, গরম চায়ে তেজপাতা অবশ্যই দিন আর পান করুন। স্বাস্থ্যকর পানীয় আপনার শরীর আর মন উভয়কেই ভাল রাখতে সাহায্য করে।

চা নিয়ে একটা অদ্ভুত রকমের দ্বিমত সব সময় প্রচার হয়। কেউ কেউ বলেন চা খাওয়া উপকারি, আবার কেউ কেউ বলেন চা খেলে শরীরে অনেক ক্ষতিকারক প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। তবে একটা কথা ঠিক যে দুধ চা দিনে এক কাপের বেশি খাওয়াও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। দুধ চা না খাওয়ার প্রথম আর প্রধান কারণ হল এটা খিদে খুব বাজে ভাবে কমিয়ে দেয়। যা আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

তবে লাল চা অর্থাৎ গরম জলে ফোটানো চা অনেকের মতেই উপকারি, এমনকি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে মশলা চা আরও বেশি উপকারি। এই চা বানানোর সময় আমরা মাঝেমধ্যেই তাতে গোটা গরম মশলার সঙ্গে তেজপাতা দিয়ে থাকি। মূলত চায়ের স্বাদ আর গন্ধ বাড়ানোর জন্যই এমন ব্যবস্থা নিয়ে থাকি আমরা। তবে, তেজপাতার চা কতটা উপকারী তার বোধ হয় কোনও আন্দাজ আমাদের অনেকেরই নেই।

তেজপাতার গুণের কোনও সীমা পরিসীমা নেই। এই বিরাট স্বাস্থ্যকর পাতার মধ্যে রয়েছে কপার, সেলেনিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো নানান উপকারী উপাদান। সঙ্গে পেয়ে যাবেন ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও ফলিক অ্যাসিডও।

দেখে নেওয়া যাক তেজপাতার কিছু উপকারিতা:

  • তেজপাতার চায়ে থাকা প্রদাহরোধকারী উপাদান আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে উপকারী।
  • ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেই ঠান্ডা লাগার সমস্যায় ভোগেন। তেজ পাতার অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণ ঠান্ডা লাগতে বাধা দেয়। সঙ্গে এটি বুকে জমা কফ বের করতেও সাহায্য করে।
  • তেজপাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্যও এই চা বিশেষ উপকারি।
  • উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ও শরীর থেকে বাজে কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে তেজপাতার চা।
  • তেজপাতার চা হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই যারা বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন তারাও এই চা খেতে পারেন।

কীভাবে বানাবেন?

  • ৩ থেকে ৪টি তেজপাতা নিয়ে প্যানে দিন। এবার তাতে ১ কাপ জল দিয়ে পাঁচ মিনিট কম আঁচে ফুটিয়ে নিন। এবার তা নামিয়ে ঠান্ডা অথবা গরম দু’ভাবেই পান করতে পারেন।
  • আপনি চাইলে দুধ চায়ের মধ্যেও তেজপাতা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ক্ষতিকারক দুধের সঙ্গে পুষ্টিকর তেজ পাতাও যাবে আপনার শরীরে। তেজপাতার গুণ অফুরন্ত। ওজন কমানো থেকে শুরু করে স্ট্রেস কমানো সব কিছুর মধ্যেই তেজপাতার একটা বিশেষ অবদান রয়েছে। তাই, গরম চায়ে তেজপাতা অবশ্যই দিন আর পান করুন। স্বাস্থ্যকর পানীয় আপনার শরীর আর মন উভয়কেই ভাল রাখতে সাহায্য করে

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: