blog

কাঠ বাদামের উপকারীতা

কাঠ বাদামে পুষ্টিগুণে ভরপুর। এইটি খেতেও বেশি মজাদার। প্রতিদিন সকালে ব্রেকফাস্ট ৭/১০ টি আমান্ড অর্থাৎ কাঠবাদাম রাখুন। অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাবেন। কাঠবাদাম অর্থাৎ আমার ব্রেকফাস্ট হিসেবে খাওয়ার জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি খাবার। স্বাস্থের তুলনায় কাঠবাদাম পুষ্টিগুণ বেশি সমৃদ্ধ কাঠবাদাম এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, কপার, সেলেনিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম। এই বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, ই, দি এবং উপকারী ফ্যাট। প্রতি 100 গ্রাম কাঠ বাদামের রয়েছে এনার্জি ৫৭৮ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ২০ গ্রাম, ফ্যাট  ৫১ গ্রাম, প্রোটিন ২২ গ্রাম, থায়ামিন ০.২৪ মিলিগ্রাম, রাইবোফ্লাভিন  ০.৮ মিলিগ্রাম , নিয়াসিন ৪ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ৬০.১৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ই  ২৬.২২মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪৮ মিলিগ্রাম,  আয়রন ৪  মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ২৭৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৪৭৪ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম ৭২৮ মিলিগ্রাম। এছাড়াও কাঠবাদামের রয়েছে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড অয়েল, জিংক , ফলিক অ্যাসিড ও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। কাঠ বাদামের উপকারিতা সীমাহীন বাদাম বলা যাবে না এটা এক ধরনের খাদ্য বীজ।

পুষ্টিগুণে ভরপুর এই বাদাম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমায়, হূদেরাগের ঝুঁকি কমায়, রক্তস্বল্পতা দূর করে। এটি চুল ও ত্বকের জন্য ভালো। কাঠবাদামের রয়েছে অগণিত উপকারিতা।

বিশেষজ্ঞদের কথা মতে- প্রতিদিন এক মুঠো কাঠবাদাম খেলে এই উপকার গুলো পেতে সাহায্য করবে আপনাকে

চিকিৎসকরা বলেন – এক বাটি জলে কাঠ বাদাম কে রাতভর ভিজিয়ে রাখলে, উপরের বাদামের খোসা টি খুব সহজে বেরিয়ে আসে । খোসা বেরিয়ে আসার পর সাদা বাদামটিকে এক সপ্তাহ রেখে দিত খেতে পারেন। খোসা ছাড়ানো অবস্থায় খেলে কাঠবাদাম অনেক বেশি কার্যকারী হয়ে ওঠে।

প্রয়োজনীয় উপাদান শোষণ- কাঠ বাদাম শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফ্যাট এর যোগান দেয় ফলে ভিটামিন এ’ এবং ই’ এর মতন প্রয়োজনীয় ফ্যাট সলিউবল ভিটামিন শোষিত হয় ও শরীরের পিএইচ মাত্রা বজায় থাকে।

বয়স বৃদ্ধি রোধ করে- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় ভেজা কাঠবাদাম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং বয়স হওয়া প্রতিরোধ করে।

হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে- কাঠবাদাম ভিজিয়ে খেলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মূলত কাঠবাদামের গায়ে যে খোলা থাকে তা তৈরি হয় এক ধরনের উৎসেচক দিয়ে। তাই যখন কাঠ বাদাম ভেজানো হয় তখন এর ভেতরে আদ্রতা জন্য বাদামের খোসা নরম হয়ে যায় একই সঙ্গে মূল বাদামের অংশটি বেশি নরম হয়ে যায়। এমন বাদাম খেলে খাবার খুব সহজে হজম হয়ে যায়। আসলে ভেজানো কাঠবাদামে এক ধরনের উৎসেচক থাকে যা লিপেস নামে পরিচিত। এইটি খাবারে থাকা ফ্যাট এবং অন্যান্য জটিল উপাদান সহজে হজম করতে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে- যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে খুব কষ্ট পান, তাদের জলে ভেজানো কাঠ বাদাম খাওয়া উচিত কারণ কাঠবাদামে থাকা প্রচুর পরিমাণে আঁশ। অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এর মত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। তবে কাঠবাদাম খাওয়ার সাথে প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। যেন বাদাম ভালোভাবে পরিপাক হতে পারে ও তার উপকারী প্রভাব বিস্তার করতে পারে। একবারে খুব বেশি কাঠ বাদাম খাওয়া প্রয়োজন নেই । প্রতিদিন ৫-৬ টিকার বাদাম খাওয়াই যথেষ্ট।

হার্টের জন্য ভালো-নিয়ম করে ভেজানো বাদাম খেলে আমাদের হার্ট ভালো থাকে এর কারণ হলো কার্ড বাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম প্রভূতি উপকারী উপাদান থাকে যা হাতের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।  গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন কাঠবাদাম খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে সপ্তাহে পাঁচবার বাদাম খেলে 50% হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়। 

এনার্জি বৃদ্ধি করে- পুষ্টিকর এই বাদামে রয়েছে ম্যাংগানিজ কপার রিবোফ্লেভিন। যা মেটাবোলিজমের হার-ও বাড়ায় এবং এনার্জি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কাজের ব্যস্ততায় যদি ক্লান্তি ভাব কাজ করে তবে এক মুঠো কাঠ বাদাম খেয়ে নিতে হবে। এটি বিপাক প্রক্রিয়া ভালোভাবেই হতেও সাহায্য করে।

ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বারে- কাঠ বাদামের পুষ্টিগুণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এই বাদামে থাকে মগজ এর জন্য প্রয়োজনীয় দুটি পুষ্টিগুণ রিবোফ্লাভিন ও ক্যারনিটিন । এই উপাদান দুটি মগজের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এটি স্মৃতিভ্রম রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে প্রতিদিন 4 থেকে 6 টি কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খেলে মস্তিষ্কের কাজ উন্নতি ঘটে। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপকারী ফ্যাট এর উৎস হিসেবে কাঠবাদাম বিশেষ ভূমিকা রাখে। বাড়ন্ত শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য কাঠবাদাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। এছাড়া বৃদ্ধদের আলজেইমার হবার সম্ভাবনা কমায়। প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে কাঠবাদাম অথবা আমন্ড অয়েল রাখার ফলে স্বাস্থ্য ভালো থাকার পাশাপাশি নার্ভ সিস্টেমের ওপরে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়।

গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত-গর্ভাবস্থায় জলে ভেজানো কাঠবাদাম খেলে তার সন্তানও  দুজনের শরীর ভাল রাখে। প্রচুর ফলিক এসিড রয়েছে। এই উপাদানটি নবজাতকের জন্ম সমস্যা রাজ সহায়ক। শিশু যেকোনো ধরনের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধের জন্য এটি অনাবশ্যকীয়। এটি টিস্যু গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে এই বাদাম মা এবং গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে।

হাড় ও দাঁত ভালো রাখে- কাঠ বাদামে থাকা ফসফরাস মিনারেল ও ভিটামিন হাড় ও দাঁতকে সুরক্ষা দেয়। ফসফরাস কেবল হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে না এটি হাড় ক্ষয় রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। হাড় ও দাঁতের সুস্বাস্থ্য ও স্থায়িত্বের ওপর ফসফরাসের প্রভাব রয়েছে অনেকখানি। বয়স জনিত হাড় ও দাঁতের সমস্যা তৈরি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেও ফসফরাস কার্যকারী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়- কাঠবাদাম অ্যালকালাইন সমৃদ্ধ একটি খাবার। এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন রয়েছে অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এইগুলো বিভিন্ন ধরনের রোগের হাত থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। যেমন ক্যান্সার এবং ফুসফুসের রোগ ইত্যাদি থেকে সুরক্ষা দেয়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে- উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে তাহলে অবশ্যই কাঠ বাদাম খান। এর কারণ হলো কাঠবাদাম এর মধ্যে খুব কম পরিমাণে সোডিয়াম থাকে এবং বেশি মাত্রায় থাকে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপের সাহায্য নিবারণে সাহায্য করে। এছাড়া কাঠবাদাম এর ভেতরে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম এবং ফলিক অ্যাসিড রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা দূর করে।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে- বেজা কাঠবাদামে ভিতামিন b17 থাকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। ক্যান্সার রোগীরা প্রতিদিন কাঠ বাদাম খেতে পারে। কাঠবাদাম কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি কোলন কে ভালো রাখতেও কাজ করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে-প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রতিরোধ করে কাঠবাদাম। যার ফলে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোন খাবার খাওয়ার পর কাঠবাদাম খেলে রক্ত চিনি র  প্রভাব দেখা দেয় না। কাঠবাদাম গ্লুকোজ প্রক্রিয়া ও  শোষণ কে নিয়ন্ত্রণ করে।

ত্বকের যত্নে কাঠবাদাম- চম রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ত্বকের যত্নে আমন্ড অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণ হিসেব অনুযায়ী কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে ত্বকে উপকার হয় একদম ভেতর থেকেই। ফলে অল্প বয়সের বলিরেখা দেখা দেয় না এবং ত্বকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়েস প্রাকৃতিক ভাবে।  কাঠবাদাম খেলে অথবা মুখে লাগালে ত্বক থাকে চির নতুন। সেইসঙ্গে ভেজানো কাঠবাদাম বেটে যদি মুখে মাখা যায় তাহলে তা প্রাকৃতিক ক্রিম এর মতন কাজ করে এছাড়াও হয় সেই সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে কাঠবাদাম। এ ক্ষেত্রে কিছুটা ফেটানো ক্রিম বেঁধে রাখা কাঠবাদাম এর সঙ্গে মিশিয়ে মাখতে হবে।

পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি- দৈনিক মাত্র সাতটি কাঠবাদাম খেলে পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ এবং গুনগতমান উভয়ই বাড়বে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে- খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো ও ভালো করে স্টোর এর মাত্রা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কাঠবাদাম হৃদপিণ্ডকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।একটি রিসার্চ থেকে দেখা গিয়েছে যারা প্রতিদিন একটি করে কাঠবাদাম খেয়েছে তাদের কোলেস্টেরল  ৪.৪% কবে যে এবং যারা প্রতিদিন দুটি করে খেয়েছে তাদের কমেছে ৯.৪% ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে- জলে ভেজানো কাঠবাদাম নিয়মিত খেলে ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমে। কারণ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে । ফলে কয়েকটি কাঠবাদাম খেলেই পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছে থেকে বিরত থাকা যায়। আর কম খেলে ওজন কমবে তা নিশ্চয়ই আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না তা ছাড়াও কাঠবাদাম খেলে পেটের মেদ কমে।

রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে-  কাঠবাদাম রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

চুলের যত্নে কাঠবাদাম- কাঠ বাদামের তেলের রয়েছে চুল বান্ধব ফ্যাটি অ্যাসিড, তার সাথে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি ১, বি২ এবং বি৬ । যা চুলকে পুষ্টিতে চুলের গোড়া শক্ত করে। ফ্যাটি এসিড চুলকে সোজা এবং সিল্কি করে।

কাঠবাদামের হয়েছে উচ্চ পরিমাণে ফসফরাস ভালো চুল গজাতে সাহায্য করে। তাছাড়া চুল পড়ে প্রধানত ফসফরাসের অভাব এ নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে ফসফরাসের অভাব মিটবে।

কাঠ বাদামের উপকারিতা

১. অনেক সময়ে কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে গ্যাস এসিডিটির সমস্যা দেখা যায়।

২. অধিক কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

৩. শরীরে অনেক সময় টক্সিক এর পরিমাণ বেড়ে যায়।

৪. যাদের এলার্জি সমস্যার রয়েছে কাঠবাদাম গ্রহণের ফলে তা বেড়ে যেতে পারে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: