blog

ঋতুস্রাবের সময় প্রায়ই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়?

পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা ছাড়াও মহিলাদের আরও অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। এমন অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে তাঁদের সমস্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। সাধারণত পিরিয়ডের সময় হরমোনের মাত্রা পরিবর্তনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়।

পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা ছাড়াও মহিলাদের আরও অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। এমন অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে তাঁদের সমস্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। সাধারণত পিরিয়ডের সময় হরমোনের মাত্রা পরিবর্তনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ঋতুস্রাব হওয়ার আগে কিংবা ঋতুস্রাব চলাকালীন দেখা দিতে পারে। এতে মহিলারা অস্বস্তি বোধ করলেও এই সমস্যা বেশ সাধারণ। মলের মধ্যে রক্ত ​​বা তীব্র ব্যথার মত উপসর্গ যতক্ষণ না দেখা দিচ্ছে, ততক্ষণ অবধি এই নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। চলুন জানা যাক পিরিয়ডের সময় কেন কোষ্ঠকাঠিন্যের দেখা দেয় এবং আপনি এই সমস্যাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

হরমোনের পরিবর্তন

আপনার পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে আপনার শরীরে প্রোজেস্টেরন তৈরি হয়। এটি আপনার পাচনতন্ত্রকে ধীর করে দিতে পারে, যার ফলে আপনার পিরিয়ডের ঠিক আগে এবং পিরিয়ড চলাকালীন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে, কিছু স্বাস্থ্যে সম্পর্কিত সমস্যাও পিরিয়ডের সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) এবং এন্ডোমেট্রিওসিস উভয়ই আপনার ঋতুস্রাবের সময় আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। কিন্তু আপনি যদি আপনার লাইফস্টাইলে কিছু বিষয় মেনে চলেন তাহলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যুক্ত খাবার খান

ফাইবার মলকে নরম করে দেয় এবং এটি পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে আরও মসৃণভাবে নির্গত হতে সাহায্য করতে পারে। আপনার ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত যা পিরিয়ডের সময় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে। এর জন্য আপনি আপেল, শিম, মসুর ডাল, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি খেতে পারেন।

প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন

শরীরে জলের অভাব পিরিয়ডের সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। আপনি স্যুপ, রসালো ফল এবং কিছু পানীয়ের মাধ্যমে নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে পারেন। আপনি লেবু দিয়ে গরম জল পান করতে পারেন, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া প্রতিকার। এছাড়া ২-৩ লিটার জল নিয়মিত পান করুন।

ব্যায়াম করুন

শারীরিক পরিশ্রমও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। যখন আপনি ক্র্যাম্প এবং মাসিকের অন্যান্য উপসর্গগুলির সঙ্গে লড়াই করেন, তখন ব্যায়াম করা আপনার পক্ষে কঠিন হতে পারে, তবে হালকা ২০ মিনিটের হাঁটা আপনাকে স্বস্তি এনে দিতে পারে। পিরিয়ডের সময় ব্যায়াম করলে মেজাজের পরিবর্তনও হতে পারে। এছাড়াও, ক্লান্তি এবং মাথাব্যথারও কোনও অভিযোগ থাকে না। ব্যায়াম পিরিয়ডের সময় রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে। এছাড়া পিরিয়ডের মধ্যে রক্ত ​​জমাট বাঁধার সমস্যাও দূর করে।

অনেক সময় এমনও হতে পারে যে বাথরুমে যাওয়ার সময় না থাকলে বা কোনও কারণে তা বন্ধ করে দিলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে। দীর্ঘক্ষণ টয়লেট আটকে রাখার অভ্যাস আপনার মলত্যাগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং এটিকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলতে পারে। তাই এই ধরনের অবস্থা এড়িয়ে চলুন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: