blog

শিশুদের জ্বরের ঘরোয়া প্রতিকার

শিশুদের মধ্যে জ্বর সাধারণ । এবং এটি এমন একটি উভয়সঙ্কট, বাবা-মা যার সম্মুখীন হন যখন একটি শিশু জ্বরের মুখোমুখি হয় – ডাক্তারের কাছে যাবেন না বাড়িতে সন্তানের চিকিৎসা করবেন ।

একটি সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত নিতে, শিশুদের কেন জ্বর হয় তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ । জ্বর একটি আত্ম-প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া, যা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানব শরীর ব্যবহার করে । উচ্চ তাপমাত্রায়, শরীর স্বেত রক্তকণিকা উত্পাদন করে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রদান করে এবং ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে বাধা দেয় । আগ্রহজনকভাবে, জ্বর কমিয়ে দিলে শরীরের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটিকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাধা দিতে পারে ।

শিশুদের জ্বর সম্পর্কে তথ্য

বেশিরভাগ বাবা-মা জ্বর সম্পর্কে চিন্তিত এবং এটি কমাতে সবকিছু করেন । তবে, তাপমাত্রার পরিমাপ জ্বরের সংকেত কিনা তার সবচেয়ে ভালো নির্দেশক নয় । একজন বাবা-মা হিসাবে, আপনার সন্তান কতটা আরামদায়ক অবস্থায় রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন । আপনার সন্তানের যদি জ্বর কম থাকে এবং সে সক্রিয় থাকে, তবে আপনাকে হস্তক্ষেপ করতে হবে না! তবে, খাবার ও পানীয় খাওয়ার উপর নজর রাখা এবং জ্বরের সাথে সন্তানের প্রস্রাব পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ । যদি এটি স্বাভাবিক হয়, তবে আতঙ্কিত হবার বা শিশুবিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই । তার অবস্থার উন্নতি বা পরিবর্তন বুঝতে পারার জন্য শুধু সন্তানের উপর নজর রাখুন । যাইহোক, যদি আপনার সন্তান অস্বস্তিকর অবস্থায় থাকে, এবং জ্বর ১০৪ ডিগ্রী অতিক্রম করে অথবা টানা দুই দিনের

সিরাপ গ্রহণ করা সহজ হতে পারে, তবে এটা সেরা বিকল্প হওয়াটা বাধ্যতামূলক নয় । ঘরে জ্বরের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলি বেছে নেওয়ার ফলে আপনার সন্তানের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে অনাক্রম্যতা তৈরি করতে সহায়তা করে । ওষুধ বৈদেশিক পদার্থ, যা বিপাক করার প্রয়োজন হয় । উপরন্তু, টাইলেনল, ইবুপ্রোফেন এবং অ্যাডভিলের মতো ওষুধগুলি সাধারণত জ্বর কমানোর জন্য পরিচালিত হয়, যেগুলি যকৃতের ব্যর্থতা (লিভার ফেলিয়োর) এবং নিয়মিত খাওয়াতে থাকলে হাঁপানি অথবা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল রক্তক্ষরণের মতো ক্ষতিকারক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে । জ্বরকে কমাতে প্রাকৃতিক উপায়গুলি ব্যর্থ হলে, তবেই কেবলমাত্র এই ওষুধগুলি প্রয়োগ করা ভালো, বা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে, যখন আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে অবিলম্বে যোগাযোগ করতে হবে:-

  • যদি শিশুর ১০৪.৪ ডিগ্রী বা তার বেশি জ্বর থাকে
  • কেমোথেরাপির মতো অন্যান্য কারণে যদি শিশুর দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে
  • কাশি, ঠান্ডা বা ব্যথা ছাড়াই শিশুটির জ্বর দুই থেকে তিনদিন ধরে চলতে থাকে
  • যদি শিশুটি জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্ট ভোগ করে

শিশুদের জ্বরের চিকিৎসার জন্য ১৪টি ঘরোয়া প্রতিকার

আপনি যদি রাতে জেগে ওঠেন এবং আপনার সন্তানের কপাল উষ্ণ অনুভব করেন, তবে ভয় পাবেন না । গভীর শ্বাস নিন এবং নিম্নলিখিত কথাগুলি বিশ্লেষণ করুন:

  • আপনার শিশুর যদি ঠান্ডা বা সর্দি হয়, তাহলে তার জ্বর হতে পারে
  • আপনার সন্তানের টিকা দেওয়ার পরের জ্বরও হয়ে থাকতে পারে
  • অনেক বাচ্চাদের দাঁত বেরনোর সময় জ্বর হয় ।

এখানে শিশুদের জ্বরের জন্য কিছু কার্যকর প্রতিকার রয়েছে, যেগুলি একটি মায়ের বই থেকে সরাসরি নেওয়া হয়েছে! এই প্রতিকারগুলি আমাদের মা এবং ঠাকুমারা যেগুলি বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবহার করেছেন এবং জ্বর থেকে পরিত্রাণ দিতে খুব শক্তিশালী:

১) একটি পেঁয়াজ ঘষা

আপনি যদি একজন ভারতীয় হন, আপনি অবশ্যই আপনার মা এবং ঠাকুমাকে পেঁয়াজের ওষুধের সুবিধার বিষয়ে বলতে শুনেছেন । পেঁয়াজ শুধুমাত্র শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে না, জ্বরের সময় শরীরের যন্ত্রণা থেকেও মুক্তি দেয় । একটা পুরো পেঁয়াজকে পাতলা টুকরো করে কাটুন এবং কয়েক মিনিটের জন্য ২ থেকে ৩টে টুকরো আপনার সন্তানের পায়ের পাতায় ঘষুন । এই প্রক্রিয়া জ্বর কমাতে দিনে দুইবার করা যেতে পারে ।

২) আদা দিয়ে স্নান

আদা শিশুদের জ্বরের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম । এটা ঘাম হতে সাহায্য করে, যা শরীরের তাপ এবং বিষাক্ততা অপসারণ করতে সাহায্য করে । উষ্ণ জলের ভরা বাথটবে ২ টেবিল-চামচ আদা গুঁড়া যোগ করুন । গুঁড়া ভালো করে ঘুলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন । আপনি আপনার অসুস্থ শিশুকে এই উষ্ণ আদা স্নান করাতে পারেন । স্নানের পর ঘাম হয়ে শরীরের তাপ হ্রাস পাবে এবং বিষাক্ততাকে বের করে দেবে । আদা বাচ্চাদের জ্বরের জন্য কার্যকর ঘরোয়া চিকিত্সা হতে পারে । স্নান করানোর সময়, আপনার বাচ্চাদের চোখে যেন এই জল না লাগে, তা লক্ষ্য রাখুন ।

৩) ক্যামোমিল চা

৫) আপনার শিশুকে সর্ষের তেল এবং রসুন দিয়ে মালিশ করুন

আপনি শুনেছেন যে, সর্ষের তেল এবং রসুন কার্যকরভাবে জ্বর কমাতে পারে । এটা সত্যি । উপরন্তু, এটি শরীরের ব্যথা কমায় এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থকে সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে । শুধু ২ টেবিল-চামচ সর্ষের তেল গরম করুন এবং এতে ১ টেবিল-চামচ রসুনের পেস্ট যোগ করুন । এই মিশ্রণ ২ মিনিটের জন্য রেখে দিন । ঘুমোনোর আগে আপনার সন্তানের বুকে, পায়ের পাতায়, হাতের তালুতে, গলা এবং পিঠে মিশ্রণটি মালিশ করুন ।

৬) ডিমের সাদা অংশ দিয়ে ভেজানো

৩ টেবিল-চামচ ডিমের সাদা অংশ নিন এবং একটি ছোট বাটিতে এটিকে ফেটিয়ে নিন । এটিতে একটি পরিষ্কার কাপড়ের টুকরো ডোবান । কাপড়টি এক মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন এবং সেই কাপড় দিয়ে আপনার সন্তানের পায়ের পাতা ঢেকে দিন এক ঘন্টার জন্য । এটি আপনার সন্তানের শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেবে । আপনি তার জ্বর কার্যকরভাবে কমাতে প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করতে পারেন ।

৭) কিশমিশ

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকারিয়াল উপাদানগুলির উপস্থিতির কারণে, কিশমিশ কার্যকরভাবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে জ্বর কমিয়ে দেয় । এক ঘণ্টার জন্য এক কাপ জলে প্রায় ২৫টি কিশমিশ ভিজিয়ে রাখুন । কিশমিশ নরম হয়ে গেলে, সেগুলি চটকে নিন এবং তরলটি ছেঁকে নিন । একটি অর্ধেক লেবুর রস এই তরলে যোগ করা যেতে পারে । প্রতিদিন দুইবার করে এই পানীয় আপনার শিশুকে খাওয়ান, এতে জ্বর কমে যাবে ।

ভাইরাল জ্বরের জন্য ঘরোয়া প্রতিকার

ভাইরাল জ্বর একটি ঋতু সংক্রমণ এবং এর জন্য বাড়িতেই যত্ন নেওয়া যেতে পারে । বাচ্চাদের ভাইরাল জ্বরের জন্য কয়েক ঘরোয়া প্রতিকার আছে:

১) ধনে বীজ

ধনে বীজে উপস্থিত ফাইটোনিউট্রেন্ট এবং ভিটামিনগুলি শরীরের অনাক্রম্যতা তৈরি করতে সাহায্য করে । এটি আপনার শিশুকে ভাইরাল জ্বরের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে পারে । ফুটন্ত জলে কিছু ধনে বীজ যোগ করুন । যখন এই মিশ্রণটি ঠান্ডা হযবে, এটিকে ছেঁকে নিন এবং দুধ ও চিনি যোগ করুন । জ্বর কমাতে আপনার সন্তানকে এই শীতল পানীয় পান করান ।

২) ডিল বীজ

ডিল বীজে মনোটেরপেন এবং ফ্ল্যাভোনিয়েডস থাকে, যা শরীরের তাপমাত্রাকে কমিয়ে আনতে ও ভাইরাল জ্বরের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি অ্যান্টিমাইকোবায়্যাল এজেন্ট হিসাবে কাজ করে । আপনি আপনার শিশুর জ্বর কমানোর জন্য একটি পাঁচন তৈরি করতে পারেন এবং সন্তানকে খাওয়াতে পারেন ।

৩) তুলসী পাতা

বেসিল বা তুলসী পাতাগুলিতে অ্যান্টিবায়োটিক, জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে । তারা অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়াবিরোধী এবং ছত্রাকবিরোধী প্রকৃতির । তুলসী দীর্ঘকাল থেকেই ভাইরাল জ্বর প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা হয়ে আসছে । ২০ টি তুলসীর পাতা এক লিটার জলে ফোটাতে হবে এবং আধা চা চামচ লবঙ্গ গুঁড়ো যোগ করতে হবে । এটি কমে অর্ধেক না হওয়া পর্যন্ত মিশ্রণটি ফোটান এবং প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর আপনার সন্তানকে এটি খাওয়ান । এটা জ্বর কমাতে পারে ।

৪) চালের গুঁড়ি

চালের গুড়ি একটি মূত্রবর্ধক এজেন্ট হিসাবে কাজ করে । এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে । এটি শরীরের বিষক্রিয়াবিশেষকে মূত্রের মাধ্যমে বের করে দিতে সাহায্য করে । ভাইরাল জ্বরকে কার্যকরভাবে হ্রাস করার জন্য আপনি ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে চালের গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন ।

৫) মেথি

মেথি বীজে আলকালোইড, সাপোনিন এবং ডায়োসজেনিন রয়েছে, যাতে প্রচুর ঔষধি গুণ রয়েছে । তারা কার্যকরভাবে ভাইরাল সংক্রমণ কমাতে পারে । আপনাকে রাতে মেথির বীজ ভেজাতে হবে । আপনার সন্তানকে সারা দিন জুড়ে এই জল ছেঁকে খেতে দিন । এটি কার্যকরভাবে জ্বর কমাতে পারে ।

৬) নারকেল তেল

নারকেল তেলে ব্যাকটেরিয়া এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য আছে । আপনি আপনার শিশুর খাবারে অল্প পরিমাণে এটি মিশিয়ে তাঁকে খাওয়াতে পারেন ।

৭) কর্ড লিভার অয়েল

কড লিভার তেলের ব্যবহার শরীরের রোগপ্রতিরোধ প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর হয় । ঋতুগত সংক্রমণগুলি বন্ধ করতে নিয়মিত আপনার সন্তানকে এটি দিন ।

প্রাকৃতিক উপায়ে জ্বর কমানোর টিপস

জ্বর কমানোর টিপসও মনে রাখুন, যাতে চিকিৎসার হস্তক্ষেপ ছাড়াই আপনার সন্তানের উপশম করবে ।

১) উষ্ণ জলে স্নান করানো

শিশুদের জন্য, একটি উষ্ণ স্পঞ্জ স্নান এবং বড় বাচ্চাদের জন্য, একটি টাবে উষ্ণ জলে স্নান জ্বরের সময় সত্যিই আরাম দিতে পারে । একটি গরম স্নান তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । শরীরের তাপমাত্রা শরীর থেকে বাষ্পীভূত হয়ে বেরিয়ে যায় । জ্বরের সময় ঠান্ডা জলে স্নান এড়ানো উচিত । ঠান্ডা জল শরীরে কম্পনকে বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়াতে পারে ।

২) বিচক্ষণভাবে ফ্যান বা পাখা ব্যবহার

বিচক্ষণভাবে ফ্যান বা পাখা ব্যবহার করুন । যদি আপনার সন্তানের জ্বর থাকে তবে ফ্যানটিকে স্যুইচ অফ করার মতো পুরানো ধারণার পুনঃবিবেচনা করতে পারেন । আপনার সন্তানের একটি ঘরের ভিতরে রাখা নিশ্চিত করুন, যে ঘরে আলো-বাতাস ভালোভাবে প্রবেশ করে এবং হাওয়া দেয় । সন্তানের চারপাশে বায়ু সঞ্চালন সহজতর করতে আপনি সর্বদা ফ্যান অন রাখতে পারেন । ফ্যানের গতি কম করুন, যাতে ঘরটি তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য দেখুন শিশুটি কাঁপছে কিনা ।

৩) নিয়মিত বিরতিতে আপনার বাচ্চাকে খাওয়ান

জ্বরের সময় শরীরে ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম এবং আয়রনের বেশি প্রয়োজন হয় । একটি উচ্চ-ক্যালোরি, উচ্চ-প্রোটিন, কম-ফ্যাটযুক্ত এবং উচ্চ-তরল খাদ্যের সুপারিশ করা হয় । সবজির সঙ্গে মাংসের হাড় ঝোল বা চিকেন স্যুপ সন্তানকে খাওয়ানো যাবে । হাড়ের ঝোলে তরুণাস্থির উচ্চতর উপাদান রয়েছে, যা স্বেত রক্ত কণিকা তৈরি হতে সহায়তা করে, যা শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় ।

আপনার সন্তানের জন্য সহজপাচ্য খাবার খাওয়া নিশ্চিত করুন । প্রাথমিকভাবে শিশুকে প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর খাওয়ান এবং যখন শিশুটির অবস্থা আগের থেকে ভালো হবে, আপনি চার ঘণ্টার অন্তর খাওয়াতে পারেন । আপনার সন্তানকে খাওয়ার জন্য জোর করবেন না । মশলাযুক্ত, ফ্যাটি এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারগুলি এড়ানো উচিত, কারণ এগুলি হজম করা কঠিন । কাস্টার্ড, হালকা ডাল, ডিম, বেকড মাছ, সিরিয়াল, সিদ্ধ সবজি এবং শুকনো ফলগুলি খাবার হিসাবে এই সময় ভালো পছন্দ । আপনার শিশু যদি সদ্যজাত হয়, চটকানো কলা এবং আলু সানা খুব ভালো । চাল ও মুসুর ডাল দিয়ে তৈরি খিচুড়ি আরেকটি ভালো বিকল্প ।

৪) আপনার বাচ্চাকে হাইড্রেটেড রাখুন

স্যুপ এবং কঠিন খাবার ছাড়াও, জল এবং রসের আকারে পানীয় গ্রহণ করা জরুরি । ফলের রস, গ্লুকোজ জল, দুধ, বার্লি জল, নারকেল জল এবং মাখনছাড়া দুধ শক্তি স্তরকে বাড়িয়ে দেয় এবং এটি পুনরায় সুস্থ্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি দেয় । নবজাতক শিশুদের, যারাবুকের দুধ খায়, তাঁদের, প্রতি ১০ মিনিট অন্তর খাওয়ানো উচিত । যদি শিশুকে বোতলে খাওয়ানো হয়, শরীরে তরলের ক্ষতি পূরণ করার জন্য আপনি বারে বারে খাওয়াতে পারেন । একটি নবজাতক প্রতিবার খাওয়ার সঙ্গে প্রায় ৩০ মিলিলিটার অতিরিক্ত খাওয়াতে হবে । এক বছর বয়সীদের প্রতিবার খাওয়ানোর সময় ৯০ মিলিলিটার অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে । সন্দেহ থাকলে, আপনার ডাক্তারের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করুন, কারণ অতিরিক্ত খাদ্যের পরিমাণের পরিমাণ শিশুর ওজন ও বয়স অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে । ওআরএস-ও শরীরে অপর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ক্ষতি পূরণ করে, যা বাড়িতে জ্বরের চিকিত্সার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।

৫) হালকা জামাকাপড় নির্বাচন

জ্বরের সময়, শরীরের তাপ কমানোর জন্য শিশুদের হালকা কাপড় পরা উচিত । পোশাকের অতিরিক্ত স্তর শরীরের তাপকে ভিতরে আটকে দেয়, তাঁর ফলে জ্বর বেড়ে যায় । যদি শিশুর কাঁপুনি হয়, তাহলে একটি কম্বল ব্যবহার করুন ।

৬) বাড়ির ভিতরে থাকা

আপনার সন্তানের জ্বরের সময় তাকে সরাসরি সূর্যালোকে উন্মুক্ত করবেন না । শিশুকে শীতল ও ছায়াচ্ছন্ন জায়গায় রাখুন, বিশেষত ঘরের মধ্যে । দুর্বল শরীরে সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাই জনসাধারণের সামনে অত্যধিক বের করা এড়ানো ভালো ।

৭) বিশ্রাম এবং ঘুম নিরাময়কারী হয়

পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুম শিশুকে তরতাজা করতে পারে । বিশ্রামের সময়, শরীর অন্যান্য ক্রিয়াকলাপের সাথে মোকাবিলা করার পরিবর্তে নিরাময় করার জন্য শক্তিকে ব্যবহার করতে পারে । শিশুটি ঘুমাতে অনিচ্ছুক হলে, এমন ক্রিয়াকলাপগুলি বেছে নিন যা তাঁর শারীরিক ক্রিয়াকে সীমিত করবে, যেমন- রঙের করা, পাজল সমাধান, অথবা একটি প্রিয় খেলনা দিয়ে খেলতে দিতে পারেন । আপনার যদি সময় থাকে, গল্প বলুন, একসাথে ভিডিও দেখুন অথবা তাদের কবিতা বা ছড়া শেখান । এই ভাবে, কম কাজকর্ম করলে, শরীর প্রকৃত রোগ নিরাময়ের দিকে আরও শক্তি নির্দেশ করতে সক্ষম হবে ।

৮) স্যালাইন ড্রপ জ্বর কমাতে পারে

২৩০ মিলিমিটার জলে ১/৪ টেবিল-চামচ লবণ যোগ করে সালাইন ড্রপ তৈরি করা যেতে পারে । লবণ সম্পূর্ণরূপে দ্রবীভূত হওয়া পর্যন্ত নাড়ানো প্রয়োজন । সতর্কতা অবলম্বন করে আপনার সন্তানের নাকের প্রতিটি ছিদ্রের মধ্যে ২ ড্রপ করে দিন । স্যালাইন ড্রপগুলি বন্ধ নাককে জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করে এবং জ্বরকে কম করে ।

৯) ধোঁয়ায় বেরনো এড়ানো উচিত

ধূমপান শরীরের রোগপ্রতিরোধ প্রক্রিয়াকে দমন করে । ধোঁয়ায় বেরোলে, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের জন্য শরীরকে কঠিন লড়াই করতে হয় । এতে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় । অতএব, আপনার ছোট্টটি সিগারেট, নিকোটিন বা অন্য কোন তামাকজাত দ্রব্য থেকে বেরনো ধোঁয়ার সংস্পর্শে যাতে না যায়, তা নিশ্চিত করুন ।

১০) ঠাণ্ডা জলপট্টি দিন

শিশুদের জ্বরের জন্য প্রাকৃতিক ঘরোয়া প্রতিকারগুলির মধ্যে ঠান্ডা জলপট্টির ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত । কপাল এবং ঘাড়ের উপর একটি ঠান্ডা জলপট্টি কার্যকরভাবে বাচ্চাদের জ্বর কমাতে পারে । ৪ টেবিল-চামচ ঠান্ডা জলে ২ টেবিল-চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার যোগ করুন । আপেল সাইডার ভিনেগার শরীর থেকে তাপ অপসারণের জন্য কার্যকর । উপাদানদুটি ভাল করে মিশানো প্রয়োজন । একটি পরিষ্কার কাপড়ের টুকরো ১ মিনিটের জন্য মিশ্রণে ভিজিয়ে রাখুন । অতিরিক্ত জল সরিয়ে দিন এবং কয়েক মিনিটের জন্য আপনার বাচ্চার কপাল এবং ঘাড়ে রাখুন ।

১১) বাষ্পের শ্বাসগ্রহণ সাহায্য করে

যদি জ্বরের সঙ্গে সর্দি থাকে, তাহলে বাষ্প জ্বরের জন্য দায়ী সর্দি বা শ্লেষ্মাকে অপসারণ করতে সহায়তা করতে পারে । একটি বাষ্প স্নান (স্টিম বাথ) বাড়িতে জ্বরের একটি কার্যকর চিকিত্সা হতে পারে । গরম জলকে একটি ভেপোরাইজারে ভর্তি করুন এবং এতে ইউক্যালিপটাস তেলের কয়েকটি ড্রপ যোগ করুন । আপনার সন্তানকে বাষ্পের শ্বাস নিতে সাহায্য করুন । উষ্ণ এবং আর্দ্র বায়ু শ্বাসকষ্ট অপসারণ করে এবং এইভাবে, জ্বর কমাতে সাহায্য করে ।

জ্বর থেকে হওয়া খিঁচুনির মোকাবিলা

জ্বরের কারণে খিঁচুনি হওয়া বাচ্চাদের মধ্যে একটি সাধারণ ঘটনা । জ্বর থেকে হওয়া খিঁচুনি কি, সেই নিয়ে চিন্তিত? ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে উচ্চ জ্বর খিঁচুনির সঙ্গে আস্তে পারে । আপনি আপনার সন্তানের মুখ থেকে লালা গড়াতে, চোখ ঘোরা বা বমি লক্ষ্য করতে পারেন । এটাও সম্ভব যে, তার শরীর হঠাট করে ঝাঁকিয়ে উঠতে পারে, কুঁচকে বা শক্ত হয়ে যেতে পারে । এই খিঁচুনি কিছু সেকেন্ড থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা সাধারণত খুব দীর্ঘ বলে বিবেচনা করা হয় । খিঁচুনি যদি ৩ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তবে আপনার শিশুবিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন । খিঁচুনির সময় আপনার সন্তানকে স্বস্তি দিতে, তাকে পাশ ফিরিয়ে শোয়ান । বমি করা এড়াতে, তার মাথায যত্ন করে একপাশে ঘুরিয়ে রাখুন । খিঁচুনির সময় তাকে কিছু খাওয়াবেন না, এমনকি ওষুধও না ।

সুতরাং, এই ভারতীয় ঘরোয়া প্রতিকারগুলি জ্বরের উপশমের জন্য চেষ্টা করুন, যা কোন ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করে না । ওষুধপ্রয়োগের শুরুতে এটি চেষ্টা করুন । যাইহোক, যদি আপনি কোন উন্নতি দেখতে না পান অথবা লক্ষণগুলি আরও খারাপ হয়ে যায়, তবে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন ।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: