blog

গর্ভাবস্থায় পুদিনা সেবন করা কি নিরাপদ?

গর্ভাবস্থা মহিলার প্রচুর পরিমাণে সুখ এবং আনন্দ এনে দেয়, তবে এটি আপনি যা কিছু করেন সে সম্পর্কে আপনাকে সতর্ক করে তোলে। গর্ভাবস্থায় আপনি আপনার জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তনগুলি করেন তার মধ্যে সঠিক খাবার বেছে নেওয়ার জন্যও অনেক চিন্তাভাবনা প্রয়োজন। আপনি সহজে যা ব্যবহার করতে পারেন তা এই পর্যায়ে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এজন্য আপনি যা খান তা যত্ন সহকারে বাছাই করা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ গর্ভাবস্থায় সমস্ত ধরণের খাবার গ্রহণ করা যায় না। সুতরাং, আপনি যদি গর্ভবতী হন এবং পুদিনা সেবন সম্পর্কে অনিশ্চিত হন তবে আপনি এই নিবন্ধটি থেকে সহায়তা পাবেন। এখানে, আমরা এই ঔষধি খাওয়ার উপকারিতা এবং বিধিগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এটি আপনাকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। আসুন গর্ভাবস্থায় পুদিনা খাওয়ার উপকারিতা দিয়ে শুরু করা যাক।

গর্ভাবস্থায় পুদিনা খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপকারিতা

অনেক পরিবারে পুদিনা গ্রীষ্মের সময়ে প্রধান উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং গ্রীষ্মের অসহনীয় উত্তাপকে সহ্য করার জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর বিভিন্ন ঔষধি এবং নিরাময়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মানুষ যুগে যুগে ব্যবহার করে আসছে। পুদিনার একটি সুগন্ধ থাকে এবং এটি অনেক রান্নাতেও ব্যবহৃত হয়। গর্ভাবস্থায় পুদিনা পাতা খাওয়ার কোনো গুরুতর ঝুঁকি নেই, কারণ এটি গর্ভবতী মহিলাদের অনেক উপকারিতা দিতে পারে।

১. শ্বাসকে তরতাজা রাখে

প্রথম ত্রৈমাসিকে, সকালের অসুস্থতা প্রায়শই মুখে একটি অপ্রীতিকর স্বাদ ও গন্ধ সৃষ্টি করে। কিছু মহিলা গর্ভাবস্থার নবম মাস পর্যন্ত বমি বমি ভাব অনুভব করে। কিছু তাজা পুদিনা পাতা চিবানো আপনার মুখ থেকে সেই অদ্ভুত গন্ধ এবং স্বাদ নিবারণের জন্য দুর্দান্ত উপায়।

২. বমিভাব কমাতে সহায়তা করে

গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে বমি বমি ভাব খুব সাধারণ। কিছু পুদিনা পাতা চিবানো আপনাকে বমিভাব দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে, তবে আপনি যদি পুদিনার গন্ধ সহ্য করতে না পারেন তবে আপনার পুদিনা পাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

৩. হজম সংক্রান্ত সমস্যাগুলি দূরে রাখে

আপনাকে গর্ভাবস্থায় হজমের সমস্যা নিয়ে বেশ লড়াই করতে হবে। পুদিনা পাতা গ্রহণ আপনার পেটকে প্রশমিত করতে এবং পাচনতন্ত্রকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করতে পারে। তবে আপনার যদি অ্যাসিড–রিফ্লাক্স সমস্যা থাকে তবে এটি এড়িয়ে চলুন।

৪. সুস্থতার সাধারণ অনুভূতি বজায় রাখতে সহায়তা করে

আপনার শরীর গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ধকল সহ্য করে যা আপনাকে সম্ভবত ক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত বোধ করাতে পারে। কিছু পুদিনা চায়ে চুমুক দেওয়া মনকে প্রশান্ত করতে পারে, বিরক্তি কমায় এবং ক্লান্তি দূর করতে পারে। এটি অনিদ্রা ও উদ্বেগকে কম করতে সহায়তা করে।

আপনি যখন পুদিনা সম্পর্কে কথা বলছেন, তখন আমরা কিভাবে পেপারমিন্ট চাকে ভুলে যাই? গর্ভাবস্থায় পিপারমিন্ট চা খাওয়া আপনার পক্ষে নিরাপদ কিনা আসুন তা জেনে নেওয়া যাক।

গর্ভাবস্থায় পিপারমিন্ট চা পান করা কি নিরাপদ?

পেপারমিন্ট পুদিনার অন্যতম একটি রূপ এবং এটি গর্ভাবস্থায় উপকারী হতে পারে। কিছু পিপারমিন্ট চায়ে চুমুক দেওয়া হজম ক্ষমতাকে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে এবং একটি বিরক্তিকর পেটের অবস্থাকে প্রশমিত করতে সহায়তা করে। এর সুগন্ধ গর্ভাবস্থায় চাপ এবং উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেতেও সহায়তা করে।

আপনি যদি ইদানীং খুব উদ্বেগ বোধ করছেন, তবে পুদিনা চায়ের এই দ্রুত রেসিপিটি আপনাকে শান্ত হতে এবং গর্ভাবস্থায় আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

টাটকা বা শুকনো পুদিনা পাতা – ১ টেবিল চামচ

জল – ১৫০ এমএল বা এক কাপ

চিনি – স্বাদ মতো।

পদ্ধতি

একটি প্যানে এক কাপ জল গরম করুণ।

জল ফুটতে শুরু করলে এর মধ্যে পুদিনা পাতা দিন।

আঁচ বন্ধ করুন এবং ঢাকনা দিয়ে প্যানটি ঢেকে দিন।

চা ৩–৫ মিনিটের জন্য থাকতে দিন।

তারপরে, আপনার স্বাদের পছন্দ অনুযায়ী সময় রেখে ছেঁকে নিন এবং চিনি যুক্ত করুন।

গর্ভাবস্থায় পুদিনা গ্রহণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

যদিও গর্ভাবস্থায় পুদিনা সেবন করা নিরাপদ হিসাবে বিবেচিত হয়, তবে কখনও কখনও এটি গর্ভাবস্থায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা জটিলতার কারণ হতে পারে। এখানে তাদের কিছু এখানে দেওয়া হল।

১. অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া হতে পারে

আপনার যদি পুদিনা বা পেপারমিন্ট বা মেন্থলযুক্ত কোনো পণ্য থেকে অ্যালার্জি থাকে তবে আপনার গর্ভাবস্থায় পুদিনা এড়ানো উচিত। পুদিনায় যথেষ্ট পরিমাণে মেন্থল থাকে এবং এটি একটি মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া প্ররোচিত করতে পারে। গর্ভাবস্থায় হাঁপানি রোগীদের অবশ্যই পুদিনা এড়ানো উচিত।

২. কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের সাথে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে

গর্ভবতী মহিলাদের সাধারণত বিভিন্ন পরিপূরক গ্রহণ করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে, পুদিনা এই ওষুধগুলির প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এভাবে শরীরকে এর উপকারিতাগুলি থেকে বঞ্চিত করতে পারে।

৩. পুদিনার অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকারক হতে পারে

গর্ভাবস্থাকালীন, আপনাকে উপযুক্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। যে কোনো রূপেই অতিরিক্ত পুদিনা খাওয়ার ফলে অম্বল হতে পারে, মহিলারা গর্ভাবস্থার পরবর্তী পর্যায়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

৪. পেটে আলসার বাড়িয়ে তুলতে পারে

পুদিনা হজমের সমস্যাগুলি প্রশমিত করার জন্য পরিচিত, তবে আপনার যদি গর্ভাবস্থায় পেটের আলসার হয়ে থাকে, তবে কোনো রূপেই পুদিনা সেবন করা ক্ষতিকারক হতে পারে। পুদিনায় মেন্থলের উপস্থিতি আলসারকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

আশা করি এই তথ্যগুলি আপনার উপকারে লাগবে। পুদিনার বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যকর উপকার রয়েছে যা গর্ভাবস্থায় সহায়ক হতে পারে, তবে গর্ভাবস্থায় ঔষধিটি খাওয়ার খারাপ প্রভাবগুলিও আপনার জানা উচিত। আপনি যদি পুদিনা সেবন করতে চান তবে এটি মাঝারি পরিমাণে খাওয়া উচিত তা নিশ্চিত করুন। তবে, আপনার গর্ভাবস্থায় কোনো জটিলতা দেখা দিতে পারে কিনা আপনি যদি এই ভেষজ সম্পর্কে এখনও অনিশ্চিত থাকেন তবে তা থেকে বিরত থাকতে হবে কিনা সেটা আপনার চিকিত্সা বিশেষজ্ঞ / ডায়েটিশিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা ভাল।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: