blog

বর্ষাকালে স্ক্যাল্পের দুর্গন্ধ দূর করুন

বর্ষার এই সময়টায় হুটহাট নামে বৃষ্টি, গরমে হয় ঘাম আর প্রকৃতির গুমোট ভাব – সবকিছু মিলে চুল হয়ে থাকে ভেজা ভেজা। আবার ভেজা চুলও শুকাতে সময় নেয় অনেক। কখনো কখনো ঠিকমত শুকায়ও না। এর ফলে চুলের বারোটা বেজে যায় আর অস্বস্তিকর গন্ধ তো আছেই। এই সময়টাতে চুলের গোড়ায় ঘাম বা ভেজা ভাব থাকার ফলে তেলের সৃষ্টি হয়, এ থেকেই হয় বিচ্ছিরি গন্ধ। চুলে ইনফেকশন বা খুশকির কারনেও বিচ্ছিরি গন্ধ হয়। এতে অনেকেই বিব্রত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে পরেন।

শরীরের ঘামের গন্ধ রোধে পারফিউম, ডিউড্রেন্ট, আতর – এমন অনেক কিছুই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু চুলের গন্ধ রোধে হেয়ার পারফিউম অনেকেই ব্যবহার করার সাহস পান না চুলের ক্ষতি হবার ভয়ে। নিয়মিত শ্যাম্পু করেও এই গন্ধ থেকে মুক্তি মেলে না। তবে কিছু সহজ উপায়ে অনেকটাই দূর করা যায় চুলের এই বিচ্ছিরি গন্ধ। চলুন জেনে নেই উপায়গুলো 

১. চুল পরিষ্কার রাখুন

বর্ষার এই সময়টাতে আর্দ্রতার কারনে চুলের গোড়ায় তেলের সৃষ্টি হয়। এতে করে চুল ও চুলের গোড়া চিটচিটে হয়ে থাকে এবং গন্ধ হয়। নিয়মিত চুল পরিষ্কার করুন। চুলে যেন ময়লা-ধুলো না লেগে থাকে। মাথার স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখুন। নয়ত আর্দ্রতা থেকে ছত্রাক বা ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশনও হতে পারে, যা বিচ্ছিরি দুর্গন্ধের অন্যতম কারন।

২. পানি পান করুন

বাইরে আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, প্রচুর পানি পান করুন। ক্যাফেইন আছে এমন পানীয় বা খাদ্যবস্তু এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে মাথাতেও ঘাম আর তেল জমতে শুরু করে এবং বিচ্ছিরি গন্ধের সৃষ্টি হয়। তাই মাথার গন্ধ থেকে দূরে থাকতে বেশি করে পানি, ফলের রস, লেবুর শরবত, জুস, ডাবের পানি – এসব পান করুন।

৩. চুল শুকনো রাখুন

গোসলের পরপরই শুকনো তোয়ালে বা গামছা দিয়ে চুল ভালো করে মুছে ফেলুন অথবা ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন। স্ক্যাল্পে তোয়ালে বা গামছা ঘষে চুলের গোড়া মুছবেন না, এতে চুলের ক্ষতি হয়। ভেজা চুল যত দ্রুত সম্ভব শুকিয়ে ফেলুন। চুল বেশিক্ষন ভেজা অবস্থায় থাকলে বা দেরিতে শুকালে চুলে গন্ধ হয়।

৪. ভেজা চুল বাঁধবেন না

কখনোই চুল ভালো করে না শুকিয়ে বেঁধে ফেলবেন না বা ঘুমিয়ে পরবেন না। এতে চুলের গোড়ায় স্যাতস্যাতে ভাব থেকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ভেজা চুল কথনোই আঁচড়াবেন না। ভেজা চুল আঁচড়ালে চুলের আগা ফেটে যায়। শুকনো চুলও খুব টাইট করে বাঁধবেন না। এতে চুল ঘেমে গন্ধ হয়ে যায়।

৫. স্টাইলিং প্রোডাক্টের ব্যবহার কমান

হিট স্টাইলিং টুল, হেয়ার স্প্রে, স্টাইলিং জেলের মতন জিনিসগুলো চুলে ব্যবহার করলে ভালোর বদলে দেখা যায় এরা চুলের ক্ষতিই করে। বিশেষত বর্ষাকালে তো বটেই! হিট স্টাইলিং টুল ব্যবহারের ফলে চুলে ধুলো জমে, স্ক্যাল্পে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। হেয়ার স্প্রে বা হেয়ার জেলের জন্যেও মাথা চুলকায়, মাথায় গন্ধ হওয়াও বিচিত্র নয়! তাই মেঘলা দিনে এই সব জিনিসের ব্যবহার যত কম করা যায়, ততই ভালো!

৬. ম্যাসাজ করুন

নারিকেল তেল হালকা গরম করে স্ক্যাল্পে আলতো ভাবে ম্যাসাজ করুন। এই ম্যাসাজ চুলের জন্য খুবই উপকারী। এতে চুলের ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ফলে চুলে গন্ধ হবার প্রবণতা কমে যায়। বেশি সময় তেল দিয়ে রাখতে না চাইলে আগের দিন রাতে তেল লাগিয়ে পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৭. মেহেদী লাগান

মেহেদী পাতা বেটে অথবা মেহেদী পাতার গুড়োর সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট করে চুলে লাগান। এটি চুলকে খুশকি, ছত্রাকের আক্রমন, ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সাথে চুলে ঘামের গন্ধও দূর করে।

৮. চুলের টোনার

চুলের গোড়ায় ঘাম জমে গন্ধ হলে নিমযুক্ত টোনার তুলার বলে নিয়ে সারা স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। ঘরে টোনার তৈরি করে নিতে চাইলে এক মুঠো নিমপাতা ভালো ভাবে সিদ্ধ করে নিন। ঠান্ডা হলে পানিটা ছেঁকে এর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল ও দুই টেবিল চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। এই টোনার চুলের গোড়ায় স্প্রে করুন। জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকবে না এবং চুলে গন্ধও হবে না।

৯. সাবানকে না বলুন

অনেকেই গরমে দেখা যায় শ্যাম্পু শেষ হয়ে গেলে বা তাড়াহুড়োয় সাবান দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলেন। এটা মোটেও উচিত নয়। ভুলেও চুলে সাবান দেবেন না। সাবান চুলকে রুক্ষ করে দেয় এবং স্ক্যাল্পের ক্ষতি করে। শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। মাইল্ড শ্যাম্পু, ডিপ ক্লিনজিং শ্যাম্পু অথবা অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। প্রাকৃতিক সুরক্ষা পেতে ভেষজ শ্যাম্পুও ব্যবহার করতে পারেন।

১০. হেয়ার পারফিউম

বাজারের হেয়ার পারফিউম ব্যবহার করতে ভয় পান? তাহলে ঘরেই তৈরি করে নিন নিজের হেয়ার পারফিউম। একটি কাঁচের শিশি ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এক কাপ গোলাপ জল ও এক কাপ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এতে আপনার পছন্দমত দশ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দিন। তারপর কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে কাঁচের শিশিতে ভরে নিন। ব্যাস! আপনার ঘরোয়া হেয়ার পারফিউম তৈরি। ভয়, ক্ষতি কোনোটাই থাকলো না।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: