blog

গর্ভবতী মহিলারা দশ মাস কী মেনে চলবেন নিজের ও সন্তানের সুস্থ থাকার জন্য

প্রত্যেকটি মেয়েই চায় জীবনে মাতৃত্বের স্বাদ পেতে। একটা সময়ে ধরা হত এই মাতৃত্বেই নারী জীবনের সার্থকতা। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেটা ভাবা না হলেও একটা বড় আকাঙ্খা কিন্তু থাকেই মা হওয়ার। আর সেটাও খুব ভালো ভাবে, সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়ে। আজকের দিনে মেয়েদের বাইরে বেরিয়ে কাজ করতেই হয়। তারা যথেষ্ট দৌড়-ঝাপ করে যে কোনও কাজ করে আর তাতে সফলও হয়। কিন্তু তাতে তাদের মা হওয়া আটকায় না।

আর তাই আজকের দিনে মেয়েদের কিছু বিশেষ যত্নের দরকার হয় যেহেতু বাড়িতে বসে থাকলে তাদের চলবে না। তাই আমাদের তরফে রইল বিশেষ এই আর্টিকেল যেখানে আমরা জানাবো আপনি কী করতে পারেন গর্ভাবস্থার ওই দশ মাস সময় জুড়ে।

১. খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিন

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হয় খাবারের দিকে। কারণ আপনি খেলে তবেই আপনার গর্ভস্থ সন্তান খেতে পারবে। তাই দরকার ঠিক সময় মেনে ঠিক খাবারটি খাওয়ার।

এই সময়ে শরীরে প্রোটিনের খুব দরকার। তাই প্রোটিন আছে এমন খাবার খাওয়ার খুব প্রয়োজন। সঙ্গে ডায়েটে অবশ্যই রাখুন ক্যালসিয়াম, আয়রন বেশি আছে এমন উপকরণ।

বেশি করে সবজি, ফল খান। একবারে না খেয়ে কম কম করে বারে বারে খান। আর সব সময়ে খাবারের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।

২. জল খান

আমদের জল খেতে যেন বড় আপত্তি থাকে। কিন্তু এই সময়ে এটা একদমই করবেন না। জল খান বেশি করে যাতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে।

আর রেগুলার ওয়াটারই ব্যবহার করুন। যদি মনে হয় মাঝে মাঝে স্বাদ বদল করবেন, তাহলে নুন-চিনির জল খান।

কিন্তু জল আপনাকে খেয়ে যেতেই হবে। টার্গেট করে জল খান। রোজ ১২ – ১৩ গ্লাস জল আপনাকে খেতেই হবে।

৩. বিশ্রাম নিন ভালো করে

এই সময়ে ধকল একদম নেওয়া উচিৎ নয়। যতটা সময়ে সম্ভব বিশ্রাম নিন।

আপনি যদি কাজে যান তাহলে একটা সময়ের পর তো আপনাকে আবশ্যিক ছুটি নিতেই হবে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত বাড়িতে যতক্ষণ থাকবেন, ততক্ষণ চেষ্টা করুন বেশি করে বিশ্রাম করুন।

কিন্তু এই রকম ভুল চিন্তা করার কোনও মানে হয় না। আপনি যখন গর্ভবতী হতে পেরেছেন তখন আপনি মা-ও হতে পারবেন। আপনার শরীর জানে কী করে একটি সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে হয়। তাই এই কথাগুলো পাত্তা না দেওয়াও কিন্তু সার্বিক যত্নের মধ্যেই পড়ে।

৫. মেডিটেশন করুন

আপনি হয়ত এতদিন নিজেকে ফিট রাখার জন্য জিমে গেছেন। কিন্তু এখন এই অবস্থায় তো জিমে যাওয়া যায় না। কিন্তু আপনার শরীর আর মন দুইই ভালো রাখতে প্রাণায়াম করুন।

যদি নিজে না জানেন তাহলে এখন অনলাইনে সব পাওয়া যায়। দেখে নিন। তারপরে হয় সকালে নয়তো বিকেলে প্রাণায়াম করুন। খানিক সময়ে এই প্রাণায়ামে দিলে কিন্তু আপনার মন ভালো থাকবে আর এর ভালো প্রভাব পড়বে আপনার সন্তানের উপর।

৬. কোনও রকম নেশা নয়

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি যেটা মাথায় রাখতে হবে সেটা হল কোনও রকম নেশা করলে চলবে না। আপনাকে এই সময়ে ধূমপান, মদ্যপান এই সব একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে।

যদি আপনার পার্টনার আপনার ঘরে ধূমপান করেন তাহলে তাঁকে বারণ করে দিন। আপনার সন্তানের কিন্তু এর থেকে ক্ষতি হতে পারে। ধূমপান এই সময়ে করলে প্রি-ম্যাচিওর বেবি হওয়ার সভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

আর সাডেন ইনফেন্ট ডেথ সিনড্রোম বা এস.আই.ডি.এস হতে পারে। তাই নেশা থেকে সাবধান।

তবে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলবেন এই কয়েকমাস। এই সময়ে সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে। আপনি এতদিন হয়ত বেঁচেছেন নিজের জন্য, নিজের ভালো বা মন্দ প্রকাশ করার জন্য। পরেও হয়তো বাঁচবেন নিজের ভালোলাগা বা মন্দলাগার সাপেক্ষেই। কিন্তু এই দশ মাস আপনি ভালো থাকছেন, বাঁচছেন একটি প্রাণকে পৃথিবীতে আনার জন্য। তাই এই সময়ে সব কিছুই করুন তার জন্য। দেখবেন তাহলেই আপনি অনেকটা যত্নবান হয়ে উঠছেন, তাও এক নিমেষে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: