blog

গর্ভাবস্থায় পানি পুরি বা ফুচকা খাওয়া কি নিরাপদ

আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন, তবে বিশেষ কিছু খাবারের প্রতি আপনার লালসা দেখা দেওয়াটা স্বাভাবিক।বেশিরভাগ মহিলারাই সাধারণত ফুচকা বা গোলগাপ্পা, পানি পুরি, টিক্কি, চাট ইত্যাদির মত টক ঝাল মেশানো মশলাদার মুখরোচক রাস্তার খাবারগুলির প্রতি আকুল হয়ে ওঠেন।তবে গর্ভাবস্থায় আপনার আপোষকারী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে আপনি সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।দুর্বল অনাক্রম্যতা আপনাকে বেশি অসুস্থ করে তোলে, সুতরাং শুধুমাত্র আপনার নিজের যত্ন নিলেই চলবে না তার সাথে সাথেই আপনার গর্ভের ভিতর বেড়ে চলা ছোট্টটিরও যথাযথ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।এখানে এই নিবন্ধটিতে, গর্ভাবস্থায় স্ট্রীট ফুডগুলি খাওয়া নিরাপদ কিনা এবং গর্ভাবস্থায় রাস্তার খাবারগুলি খাওয়ার ব্যাপারে কতগুলি টিপস দেওয়ার ব্যাপারে আমরা আলোচনা করব।

গর্ভবতী থাকাকালীন আপনি কি ফুচকা বা চুরমুর জাতীয় চাট খেতে পারেন?

যদিও গর্ভাবস্থায় রাস্তার খাবারগুলি খাওয়ার ব্যাপারে সেরকম কোনও কঠোর বিধিনিষেধ নেই, কিন্তু এই সময় আপনার দেহ থাকে বেশ দুর্বল আর তাই বিভিন্ন রোগ–ব্যাধি, সংক্রমণ এবং অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে বেশি।একবার আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা কোনও সংক্রমণ বাসা বাঁধলে, তখন আপনাকে তার জন্য অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করতে হবে, যা আপনার অনাগত শিশুটির পক্ষে ভাল নাও হতে পারে।এটি ছাড়াও, এইসময় আপনার শরীরে অসংখ্য পরিবর্তন হতে থাকে, আর তার মধ্যে স্ট্রীট ফুডগুলি খেলে তা থেকে আপনার মধ্যে অ্যাসিডিটি বা অম্লতা এবং গলা–বুক জ্বালার প্রকোপটি বেশি দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ফুচকা/চাট/স্ট্রীট ফুড বা রাস্তার খাবারগুলি আপনার পক্ষে নিরাপদ

আপনার গর্ভাবস্থাকালে দেখা দেওয়া তীব্র খাদ্য বাসনাগুলি প্রশমিত করার সবচেয়ে সেরা উপায় হল বাড়িতে রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।তবে আপনার যদি রন্ধন সম্পর্কীয় দক্ষতার অভাব থাকে অথবা আপনি যদি কেবল স্ট্রীট ফুডগুলির প্রতিই আকুল হয়ে ওঠেন, তবে নিম্নোলিখিত টিপসগুলি সেক্ষেত্রে কিছুটা কার্যকর হতে পারেঃ

1.সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর একটা জায়গাকেই খাওয়ার জন্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ আপনাকে দেওয়া হচ্ছে।এর জন্য আপনি হয় এ ধরণের উপযুক্ত স্থানগুলির সন্ধান করতে পারেন, নতুবা আপনার পরিবার এবং বন্ধু–বান্ধবদের তার খোঁজ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে পারেন।ভাল–সুখ্যাতি আছে এমন খাবার জায়গাগুলি সধারণত স্বাস্থ্যবিধি এবং খাবারের মানের সাথে কখনও আপোষ করে না।

2.আপনি যদি এই প্রথম আপনার নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে গিয়ে কিছু স্ট্রীট ফুড খান, সেক্ষেত্রে সেখানে প্রাথমিকভাবে খাবারটি সংযমের সাথে এবং অল্প পরিমাণে খাওয়াই হল একটা ভাল আইডিয়া।খাওয়ার পরে আপনি যদি ভালো বোধ করেন অর্থাৎ অসুস্থ না হয়ে পড়েন বা কোনও রকম শরীর খারাপের মতও না লাগে, সেক্ষেত্রে সেই একই জায়গা থেকে আপনি পরেও আবার কিছু খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

3.রাস্তার বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়ার সময় সাধারণত জলই হয়ে থাকে তার জন্য মূল অভিযুক্তকারী।অতএব আপনি যখনই বাড়ি থেকে বের হবেন, সাথে করে সবসময় আপনার নিজের জলের বোতলটি নিয়ে রাখার পরামর্শই আপনাকে সবসময় দেওয়া হয়।বিকল্প হিসেবে, আপনি সেই সব খাবার স্থানগুলিতে প্যাকেজিং করা পানীয় জল বেছে নিতে পারেন।

4.রান্না না করা বা কাঁচা খাদ্য আইটেমগুলিকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন, কারণ এগুলি হল বিভিন্ন ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার জন্মক্ষেত্র এবং প্রায় কোনওরকম সময়ের অপেক্ষা ব্যতীতই সেগুলি আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে।সুতরাং রাস্তা থেকে কোনও প্রকার কাটা ফল, সবজি অথবা রান্না না করা খাবার একেবারে বর্জনীয়।সর্বদা রান্না করা খাবারগুলিকে বেছে নেওয়ার দিকে যান।

5.একইভাবে, রাস্তার বিক্রেতাদের থেকে কাঁচা বা ভালো মত রান্না না করা ডিমের পদগুলি খাওয়াও হল একটা বাজে ধারণা।ভাল মত রান্না না করা বা কাঁচা সবজি এবং ডিম দিয়ে প্রস্তুত স্যান্ডুইচ বা বার্গারগুলি খাওয়া আপনার এড়িয়ে চলা উচিত।এক্ষেত্রে সালমোনেলা দূষণের ঝুঁকি রয়েছে যা মারাত্মক ডায়রিয়া এবং বমির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

6.স্ট্রীট ভেন্ডরদের থেকে কোল্ড কফি কিম্বা নানা স্বাদের মিল্কশেকগুলির দিকে ঝুঁকে পড়া একেবারেই না।কারণ সেখানে না ফলগুলি তাজা থাকে আর না তাতে সেরকম ভাল দুধ মেশানো হয়।আর এই শেকের মধ্যে ব্যবহার করা বরফও ফিল্টার করা জল দিয়ে তৈরী করা হয় না।কিছু দোকানদার তো আবার শেকের মধ্যে কৃত্রিম স্বাদ যোগ করেন, যা আপনার এবং আপনার অনাগত শিশুর জন্য নিরাপদ নাও হয়ে থাকতে পারে।

7.এই সময় রাস্তার বিক্রেতাদের থেকে কটেজ চীজ ও পনীরের প্রস্তুত কিছু খাবার না খাওয়ারই পরামর্শ দেওয়া হয়।কাঁচা পনীর হল ব্যাকটেরিয়ার জন্ম ক্ষেত্র এবং এর সতেজতার ব্যাপারেও সংশয় থাকে।

8.খাওয়ার জন্য রান্না করা খাবার যেমন আলু টিক্কি বা ছোলে বাটোরা বেছে নেওয়াই ভাল কারণ এগুলিতে কাঁচা বা ঠিকমত রান্না না করা খাবারগুলির তুলনায় শরীর খারাপ হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।তবে আপনার যদি নিয়মিত অ্যাসিডিটি বা গলা–বুক জ্বালা করার পালা থাকে, তবে এ জাতীয় খাদ্য আইটেমগুলি থেকে দূরে থাকাই ভাল একটা ধারণা হবে।

9.পুদিনা, লঙ্কা বা তেঁতুলের মত যে সকল চাটনিগুলি সাধারণত স্ট্রীট ভেন্ডররা দিয়ে থাকেন সেগুলিকে কোনওভাবেই না খাওয়ার পরামর্শ আপনাকে দেওয়া হয়।সে ক্ষেত্রে একটা ভাল বিকল্প হতে পারে প্যাকেট করা টমেটো কেচাপ বা শসগুলিকে বেছে নেওয়া।চাটনিতে থাকা কাঁচা উপকরণগুলি আবার বমি এবং ডায়রিয়ে হওয়ারও কারণ হয়ে উঠতে পারে।

10.বেশীরভাগ মহিলারাই গর্ভাবস্থায় ফুচকা খাওয়ার জন্য আকুল হয়ে ওঠেন।যাইহোক, আপনি যদি বর্ষার সময় সেগুলি খাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্নশীল থাকার পরামর্শই আপনাকে দেওয়া হয় কারণ এই সময় জল দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়।

11.যদিও বেশিরভাগ মহিলাদের মধ্যেই এই সময় টক ঝাল খাবারের লোভটা একটু বেড়ে গিয়ে থাকতে পারে, তবে কিছু মহিলা আবার সেক্ষেত্রে আখের রসের মত মিষ্টি স্বাদের খোঁজ করেন।আখের রস বের করার মেশিনটি হল জীবাণুগুলির একদম আদর্শ একটা জন্মস্থান।সুতরাং আপনাকে এই সময় কেনা আখের রস খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় না।

12.গর্ভাবস্থায় যে সব মহিলাদের দাঁতে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে বেড়ে যায়, তারা সাধারণত আইসক্রীম, কুলফি–এ জাতীয় খাবারগুলি খেতে ভীষণ পছন্দ করেন।তবে, গর্ভাবস্থায় আপনি যদি কোনও রাস্তার বিক্রেতার কাছ থেকে এই খাবারগুলি খাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি একটি নামী ব্র্যান্ডের আইসক্রিম এবং কুলফিগুলি বেছে নিন।

13.রাস্তার দোকানগুলি থেকে ফলের চাট খাওয়া পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।আপনি বাড়িতেই কিছু ফল কেটে তার উপর চাট মশলা ছড়িয়ে দিয়ে এবং লেবুর রস চিঁপে নিয়ে একদম স্বাস্থ্যকর ও সতেজ ফ্রুট স্যালাড বানিয়ে তা উপভোগ করতে পারেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: