blog

পিরিয়ড মিস করার আগে প্রারম্ভিক গর্ভাবস্থার লক্ষণ

একটি পিরিয়ড মিস হলে সেটি নিশ্চিতভাবে গর্ভাবস্থার সবচেয়ে সুস্পষ্ট লক্ষণ। কিন্তু এটিই একমাত্র লক্ষণ নয়। আপনি আপনার পিরিয়ড মিস করার অনেক আগেই ডিম্বাণু নিষিক্ত হয় এবং জরায়ুর দেওয়ালে রোপিত হয়। রোপিত হওয়ার সাথে সাথেই আপনি গর্ভবতী হন। আপনার গর্ভাবস্থায় কয়েক দিন বা সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে, মাসিকের দিনের আগেও শরীর গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত দিতে শুরু করে। গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ সাধারণত গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহে দেখা যায়। কিন্তু, উত্তেজিত এবং উদ্বিগ্ন প্রত্যাশী মায়েরা সেগুলিকে লক্ষ্য করেন না। আপনি আপনার পিরিয়ড মিস করার আগেও কি আপনি গর্ভবতী কিনা জানার উপায় আছে?

একটি পিরিয়ড মিস করার আগে গর্ভাবস্থার লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি

একটি গর্ভাবস্থা পরীক্ষা নিঃসন্দেহে আপনি গর্ভবতী কিনা তা মূল্যায়ন করার সবচেয়ে সঠিক উপায়। তবে, কয়েকটি সাধারণ উপসর্গ ঘটলে, সেগুলিকে পিরিয়ড মিস করার আগে গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ বলে ধরা যায়। এখানে গর্ভাবস্থার কিছু প্রাথমিক উপসর্গগুলির একটি তালিকা রয়েছে যা আপনাকে পরীক্ষা করানোর জন্য যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষা করার আগেই আপনি গর্ভবতী কিনা তা বিচার করতে সাহায্য করতে পারে।

১. গর্ভরোপণ, রক্তপাত এবং খিঁচুনি

মাসিকের খিঁচুনি, হালকা রক্তপাত, এবং দাগ লাগা যা গর্ভরোপণের রক্তপাত নামে সাধারণত অভিহিত হয় তা গর্ভাবস্থার কিছু প্রাথমিক ও স্পষ্ট লক্ষণ। নিষিক্ত ডিম নিজেকে জরায়ুর দেওয়ালে সংযুক্ত করে যার ফলে গর্ভরোপণ হয়। যদি আপনার মাসিক চক্র নিয়মিত থাকে, তবে গর্ভরোপণ রক্তপাতের লক্ষণগুলি পিরিয়ড মিস করার এক সপ্তাহ বা ওইরকম সময় আগে ঘটে। এটি কয়েক ঘন্টা বা এমনকি কয়েক দিনের জন্য স্থায়ী হতে পারে। এটি অন্তর্বাসে বা যোনিদ্বার মোছার সময় কাপড়ে রক্তের কয়েকটি ফোঁটা হিসাবে দেখা যেতে পারে। তবে, অত্যধিক রক্তপাতের লক্ষণগুলির দিকে নজর রাখুন, যা গর্ভপাত বা পিরিয়ড হতে পারে।

২. শরীরের মৌলিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া

বাকী উপসর্গের চেয়ে প্রায়শই বেশী সঠিক, মৌলিক দেহ তাপমাত্রা অনেক মাস ধরে নজরদারি করতে হবে যাতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সনাক্ত করা যায়। ডিম্বস্ফোটনের আগে, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং আপনার পিরিয়ড চক্রের পরে স্বাভাবিকে ফিরে আসে। কিন্তু গর্ভাবস্থাযর পুরো সময় জুড়ে, শরীরের মৌলিক তাপমাত্রা বেশী থাকার প্রবণতা থাকে। গর্ভরোপণ হয়ে গেলে, সিস্টেমের মধ্যে একটি নতুন জীবনকে জায়গা দেওয়ার জন্য শরীর নিজেকে প্রস্তুত করে, যার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ইমিউন সিস্টেম গর্ভকালীন সময়টি পার করার জন্য নিজেকে পুনরায় সাজিয়ে নেয়। ডিম্বস্ফোটনের পর আপনার দেহের তাপমাত্রা যদি 20 ২০ দিনের বেশী সময় ধরে বেশী থাকে, তবে এটি একটি নতুন যাত্রার সূচনাকে চিহ্নিত করে।

৩. ব্যাথাযুক্ত, কোমল এবং ভারী স্তন

ব্যাথাযুক্ত, কোমল, ভারী স্তন বা গাঢ়তর এরিওলা হল পিরিয়ড মিস করার এক সপ্তাহ আগে লক্ষনীয় গর্ভাবস্থার লক্ষণ। গর্ভধারণের পর এস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে, মহিলারা স্তনে ব্যথা, পূর্ণতা অনুভব করেন এবং স্তনে তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করেন। স্তনবৃন্ত গাঢ়তর দেখায় এবং সেগুলিতে চুলকানি ভাব, উত্তেজনা বা খোঁচা খোঁচা ভাব অনুভূত হয়। এই লক্ষণগুলি আবার মাসিক পূর্ববর্তী স্তনের লক্ষণগুলির থেকে খুব একটা আলাদা নয়, তবে আপনার পিরিয়ড মিস হয়ে যাওয়ার পরেও এগুলি দেখা যাবে।

৪. অবসাদ এবং ক্লান্তি

হরমোনের পরিবর্তন আপনাকে সারাক্ষণ ক্লান্ত এবং অবসন্ন রাখবে। অবসাদ এবং ঘুম ঘুম ভাব গর্ভবতী হওয়ার প্রাথমিক চিহ্ন। ছোট টুকিটাকি কাজ করার পর ক্লান্ত বোধ করা অত্যন্ত স্বাভাবিক। প্রজেস্টেরোনের মাত্রাকে ঘুমানোর প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হয় এবং প্রথম ত্রৈমাসিকের পুরো সময়টিতে এরকমই থাকবে। শরীর বাড়তে থাকা ভ্রূণের জন্য আরও রক্ত উৎপাদন করতে শুরু করে যার ফলে ক্লান্তির বৃদ্ধি ঘটে। এর সাথে মোকাবিলা করতে খনিজ, ভিটামিন, লোহা এবং প্রচুর পরিমাণে তরল সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাদ্য খেতে হবে।

৫. বমি বমি ভাব

বমি ভাব বা বমি করা, একটি খুব সাধারণ উপসর্গ, যাকে প্রায়ই “সকালের অসুস্থতা” বলা হয়, এটি একটি স্পষ্ট উপসর্গ এবং আপনি যে গর্ভবতী তা নির্দেশ করতে পারে। গর্ভধারণের কয়েক দিনের মধ্যে, আপনি অস্বস্তি এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে পারেন। এস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরোনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে, আপনি প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর আপনার বমি হবে মনে হতে পারে। বমি বমি ভাব শুধু সকালেই হবে এমন নয়, এটি যে কোনো সময় এবং সারা দিন জুড়ে হতে পারে এবং সবকটি ত্রৈমাসিক ধরে চলতে পারে। প্রায় 80৮০% গর্ভবতী মহিলা পিরিয়ড মিস করার আগের প্রাথমিক সপ্তাহগুলিতে বমি বমি ভাবে ভোগেন। সকালের অসুস্থতা বা বমিভাবের লক্ষণগুলির তীব্রতা বিভিন্ন মহিলাদের মধ্যে বিভিন্ন হয়, তবে 50৫০% গর্ভবতী মহিলা গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মধ্যে বা আগেও বমিভাব বোধ করে।

৬. খাদ্যের আকাঙ্ক্ষা, গন্ধের প্রতি বিতৃষ্ণা এবং সংবেদনশীলতা

গর্ভাবস্থার হরমোনগুলি আপনার প্রিয় খাবারগুলি আকাঙ্ক্ষা করার ক্ষেত্রে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে এবং এটি কিছু গন্ধের প্রতি বিতৃষ্ণা জাগাতে পারে। গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, স্বাদ কটু লাগা এবং খাদ্যের প্রতি বিতৃষ্ণা জাগা গর্ভধারণের পর প্রাথমিক সপ্তাহগুলিতে ঘটে এবং সম্পূর্ণ গর্ভাবস্থায ধরে চলতে পারে বা নাও চলতে পারে। কিছু হবু মায়েদের এমনকি পিরিয়ড মিস করার আগে ক্ষুধা হারিয়ে যায়।

৭. পেট ফোলা এবং আঁটসাঁট ভাব

পিরিয়ড মিস করার আগে গর্ভধারণের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে একটি হল পেট ফোলা বা পেট কনকন করা এবং টান ধরা। এটি প্রজেস্টেরোনের বৃদ্ধির ফল। হরমোনের বর্ধিত মাত্রা পাচনকে বাধা দেয় যার ফলে অন্ত্রে গ্যাস আটকে থাকে। বেড়ে যাওয়া পেটের জন্য কোমরের চারপাশের জামাকাপড় আঁটসাঁট হয়ে যায় এবং ফলে অস্বস্তি হতে পারে। পেট ফুলে অপ্রীতিকর বাতকর্ম এবং ঢেঁকুর হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাওয়া এবং নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করলে যে কোনো অস্বস্তি মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারে।

৮. প্রস্রাব করার তাড়ন

ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া আরেকটি বিশিষ্ট চিহ্ন। ক্রমবর্ধমান জরায়ু মূত্রাশয়ে ধাক্কা দিতে শুরু করলে, তখনই শুধুমাত্র এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়তে থাকবে। হরমোন পরিবর্তন এবং রক্তের অতিরিক্ত উত্পাদনের সাথে, ঘন ঘন প্রস্রাব একটি সাধারণ উপসর্গ যা সমগ্র গর্ভাবস্থা ধরে চলতে থাকবে। রক্তের ফিল্টার করার জন্য কিডনি অতিরিক্ত সময় কাজ করে, ফলে বার বার প্রস্রাব করার ইচ্ছা সৃষ্টি হয়। প্রায় সব গর্ভবতী মহিলারা এই তাড়নটি অনুভব করেন যা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের লক্ষণগুলির মধ্যে একটি। আপনার পিরিয়ড মিস হওয়ার সময় থেকে এটি ঘটতে শুরু করে।

৯. মেজাজের হেলদোল

হরমোনের পরিবর্তনের ফলে আপনি হয় খুব প্রফুল্ল অথবা খুব মনমরা থাকবেন। আপনার পিরিয়ড মিস করার আগে আরেকটি প্রাথমিক চিহ্ন, মেজাজের হেলদোল রহস্যময় উপায়ে কাজ করে, এবং আপনি ক্ষুদ্রতম বা তুচ্ছ সমস্যা নিয়েও চেঁচিয়ে উঠবেন। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারগুলিকে প্রভাবিত করে, যার ফলে ক্রোধ থেকে শুরু করে হঠাৎ আবেগে ফেটে পড়া পর্যন্ত আবেগ প্রকাশের বৃদ্ধি ঘটে। আপনি স্বাভাবিক বোধ না করলে আরাম করার এবং বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কিছু সময় নিন।

১০. মাথা ঘোরা

মাথা ঘোরা এবং হালকা মাথার অনুভূতি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক উপসর্গ যা অনেক হবু মায়েদের দেখা দেয়। রক্তবাহী নালীগুলি স্ফীত হয়ে যায়, ফলে রক্তচাপ হ্রাস পায় যার ফলে মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্যহীনতার অনুভূতি হয়। এই উপসর্গ প্রথম ত্রৈমাসিক জুড়ে চলতে থাকে এবং পরবর্তী পর্যায়ে ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। যাইহোক, মাথা ঘোরার সাথে যদি যোনিদ্বার থেকে রক্তপাত এবং পেট ব্যথা হয়, তাহলে আপনার অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

১১. কোষ্ঠকাঠিন্য

প্রোজেস্টেরোন হরমোন পায়খানা শক্ত করে দেয় এবং যদি আপনি পায়খানা করতে না পারেন, তবে এটি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে। হরমোনের দৌড়ের জন্য পায়খানা শক্ত হয়ে যায় এবং পাচন তন্ত্রের মধ্যে দিয়ে যে গতিতে খাবার বাহিত হয় সেই গতি কমে যায়। আপনি যদি পিরিয়ড মিস করার পর এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, তাহলে আপনার গর্ভাবস্থার পরীক্ষা করা উচিত।

১২. মাথা ব্যাথাব্যথা

মাথাব্যাথা মাথাব্যথা সবচেয়ে সাধারণ মাসিক পূর্ববর্তী উপসর্গ, তবে গর্ভধারণের পর, এস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরোন হরমোন শিশুর জন্য জরায়ুকে প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করে। হরমোনগুলি রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় যার ফলে মাথা ব্যাথা ব্যথা করে, কারণ মস্তিষ্কের কোষগুলি কম মাত্রার চিনির সরবরাহের সাথে সঙ্গতি বজায় রাখতে সংগ্রাম করে।

১৩. ব্যাথা ব্যথা এবং যন্ত্রণা

হরমোনগুলি আপনার অভ্যন্তরে নতুন জীবনের জন্য স্থান তৈরির কাজ করে এবং এটি লিগামেন্টগুলিকে প্রভাবিত করে যেগুলির প্রসারিত হওয়ার প্রয়োজন হয়। লিগামেন্ট এবং জয়েন্টগুলি প্রসারিত করার ফলে মেরুদণ্ড এলাকায় ব্যথা হতে পারে, এটি আপনার পিরিয়ড মিস হওয়ার আগে হয়।

১৪. মুখের মধ্যে অদ্ভুত স্বাদ

হরমোন অদ্ভুত খেলা খেলতে পারে এবং আপনি আপনার মুখের মধ্যে একটি অদ্ভুত বাজে স্বাদ অনুভব করতে পারেন। আপনি কোনো বিস্বাদ ধাতু খেয়ে ফেলেছেন বলে আপনার মনে হতে পারে। এই ধাতব স্বাদটি একটি প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে যা আপনাকে জানায় যে আপনি মাতৃত্বের পথে যাত্রা শুরু করেছেন। প্রথম ত্রৈমাসিকের পরে এই উপসর্গটি সাধারণত অদৃশ্য হয়ে যায়, তবে কিছু মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

১৫. অত্যধিক তৃষ্ণা বা প্রচন্ড খাবার প্রবণতা

যদি দেখেন যে আপনি গ্যালন গ্যালন জল খাচ্ছেন তাহলে বিস্মিত হবেন না।  রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে আপনি আপনার পিরিয়ড মিস করার আগেও অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত বোধ করতে পারেন। হরমোন স্ফীতির জন্য আপনি সবসময় ক্ষুধার্ত এবং বুভুক্ষিত অনুভব করতে পারেন।

১৬. সার্ভিকাল মিউকাসের পরিবর্তন

সার্ভিকাল মিউকাসের বৃদ্ধি, গর্ভাবস্থার একটি প্রাথমিক নির্ণায়ক। গর্ভধারণের পরে, সার্ভিক্যাল মিউকাস ঘন এবং ক্রিমের মতো দেখাবে এবং আপনার পিরিয়ড মিস না হওয়া পর্যন্ত এই রকমই থাকবে। এছাড়া আপনি প্রস্রাব করার সময় ছুঁচ ফোটার মতো অনুভব করতে পারেন বা আপনার যোনির চারপাশে চুলকানি এবং ব্যাথাও অনুভব করতে পারেন।

১৭. শ্বাসকষ্ট

শ্বাসকষ্ট গর্ভধারনের প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে কারণ দুটি জীবনের জন্য শ্বাস নেওয়ার জন্য, শরীরের আরও বেশী অক্সিজেন এবং রক্তের প্রয়োজন হয়। এটি শিশুর বাড়ার সাথে সাথে এবং আরো বেশী অক্সিজেন এবং পুষ্টির প্রয়োজনে সবকটি ত্রৈমাসিক ধরে চলতে থাকে।

১৮. মুখ দিয়ে লালা পড়া এবং লালা নির্গমন

যদিও এটি খুব সাধারণ উপসর্গ নয়, কিন্তু কিছু মহিলা পিরিয়ড মিস করার আগে অতিরিক্ত লালা উৎপাদন করেন। এই অবস্থাটি প্রাথমিকভাবে টিয়ালিস গ্রেডিডারম নামে পরিচিত, এটি সকালের অসুস্থতা এবং বুকজ্বালার সাথে সম্পর্কিত। বমিভাবের যন্ত্রণা থেকে মুখে অতিরিক্ত তরল সৃষ্টি হয় যার ফলে মুখ থেকে লালা পড়তে থাকে।

১৯. গরম ফ্লাশ

আপনার পিরিয়ড বাকী পড়লে বা যখন মেনোপজ শুরু হয়, তখন এটি একটি খুব সাধারণ ঘটনা, তবে গরম ফ্লাশ গর্ভাবস্থার একটি প্রাথমিক ইঙ্গিতও হতে পারে। যদি আপনার অঙ্গগুলিকে ঘিরে তাপ তরঙ্গ জড়িয়ে থাকে, তবে আপনার গর্ভবতী হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

২০. দাগ, ব্রণ এবং ফোড়া

প্রাক-মাসিক পর্যায়ে মাঝে মাঝে ব্রণ এবং ফোড়া হওয়া সাধারণ ব্যাপার। হঠাৎ উদ্গম হলে তা গর্ভধারণের পর হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধির জন্য হতে পারে। তবে, বিপরীতটিও ঘটতে পারে। গর্ভাবস্থা আপনার পিরিয়ডের আগে ব্রণ হওয়া বন্ধ করে দিতে পারে এবং এটি শিশুর আগমনের চিহ্ন হতে পারে।

আপনি একটি পিরিয়ড মিস করার আগে কত তাড়াতাড়ি গর্ভাবস্থার লক্ষণ অনুভব করতে পারেন?

বিভিন্ন মহিলাদের বিভিন্ন সময়ে উপসর্গগুলি দেখা যায়। নমনীয় স্তন, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, ঘুম ভাব, গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং পেট ফাঁপা হল সাধারণত আপনার পিরিয়ড আসার নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ বা দশ দিন আগে দেখা দিতে শুরু করা সাধারণ লক্ষণসমূহ। ঘন ঘন প্রস্রাব করার প্রবণতা সাধারণত পিরিয়ডের কয়েক দিন আগে ঘটে। যোনি স্রাব, সার্ভিকাল মিউকাসের রঙের পরিবর্তন, এরিওলার গাঢ়তর হওয়ার মতো অন্যান্য উপসর্গগুলি কিছু দিন পরে দেখা যায় এবং এগুলির উপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখতে হয়।

  • পিরিয়ডের বিলম্ব বিভিন্ন কারণে হতে পারে। আপনি গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে হরমোন পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, ওজন হ্রাস, ওষুধ, খাদ্যের অনিয়মজনিত চাপ, পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম, থাইরয়েড, জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ বা মাদক ব্যবহারের ফলেও পিরিয়ডের বিলম্ব হতে পারে।
  • গর্ভাবস্থার লক্ষণ এবং প্রাক-মাসিক সিন্ড্রোম (পিএমএস) এর প্রভাবগুলি খুবই অনুরূপ এবং তাই, আপনার গর্ভাবস্থাকে নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে একটু বেশি অপেক্ষা করতে হবে। শরীরের মৌলিক তাপমাত্রা অবিরতভাবে বেশী থাকা, ক্রিমের মতো যোনী স্রাব, এবং গাঢ়তর এরিওলা গর্ভধারণের কিছু সঙ্গত লক্ষণ। তবে, এগুলির মধ্যে কোনোটিই পূর্ণ প্রমাণিত নয় এবং গর্ভাবস্থার অন্যান্য প্রাথমিক লক্ষণগুলি গর্ভধারণের জন্য না প্রাক-মাসিক সিন্ড্রোমের কারণে হয়েছে তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হল গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করা।
  • একটি পিরিয়ড মিস করলেই আপনি গর্ভবতী হয়েছেন বোঝায় না। পিরিয়ডের বিলম্বের জন্য অনেক কারণ থাকতে পারে – হরমোনের পরিবর্তন, চাপ এবং গর্ভাবস্থার পরীক্ষা এটি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত, একটি পিরিয়ড মিস হলে সেটিকে গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত হিসাবে ধরা যায় না।
  • গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে হবু মায়েদের রক্তপাত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। গর্ভরোপণের রক্তপাত গর্ভধারণের 6 ৬ থেকে 12 ১২ দিন পরে ঘটে। হালকা দাগ, মাঝারি গোলাপী বা হালকা বাদামী স্রাব থাকতে পারে যা কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিনের জন্য স্থায়ী হয়।  তবে, যদি আপনার অনিয়মিত পিরিয়ড চক্র থাকে, তবে দাগ লাগা আপনার চক্র-মধ্যবর্তী সাময়িক ঘটনা হতে পারে যা মাসিক পিরিয়ডের দিকে নিয়ে যায়। আপনি গর্ভবতী কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য, নিকটতম ওষুধ বিক্রেতার কাছে যান এবং একটি বাড়িতে ব্যবহার করার গর্ভাবস্থা কিট কিনুন বা নিশ্চিত উত্তরের জন্য আপনার জেনেরাল প্র্যাক্টিশনারের কাছে যান।
  • প্রাথমিক গর্ভাবস্থার উপসর্গগুলি আপনার পিরিয়ডের কয়েক সপ্তাহ আগে দেখা দেয়, কিন্তু বাড়িতে করণীয় গর্ভাবস্থার পরীক্ষা করার জন্য ডিম্বস্ফোটনের তারিখ থেকে গড় দুই সপ্তাহের অপেক্ষা করার সুপারিশ করা হয়। হিউম্যান ক্রনিক গোনাডোট্রপিন (এইচসিজি) একটি প্লাসেন্টা-উত্পাদিত হরমোন যা জরায়ুতে একটি ভ্রূণ রোপণ হওয়ার পরে প্রস্রাবে প্রবেশ করে। এটি নিষেকের 6 ৬ থেকে 12 ১২ দিন পর ঘটে।  এইচসিজি মাত্রা শুধুমাত্র পিরিয়ড আসার কাছাকাছি সময়ে পরীক্ষার দ্বারা নির্ধারিত হয়। বাড়িতে করণীয় গর্ভাবস্থার পরীক্ষা করার আদর্শ সময় হল আপনার পিরিয়ড বাকী পড়ার এক সপ্তাহ পরে। পিরিয়ডের নির্দিষ্ট দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর পরীক্ষাটি করলে সঠিক ফলাফল পাওয়ার 90৯০% সম্ভাবনা রয়েছে।

কখন গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলির অভিজ্ঞতা লাভ শুরু হয়?

গর্ভধারণের 6 ৬ থেকে 14 ১৪ দিন পরে গর্ভাবস্থার প্রথমতম উপসর্গ প্রকাশ হয়। ডিম্বস্ফোটনের সময়কালে আপনি যৌনসঙ্গম করলে, শরীর ক্রমবর্ধমান ভ্রূণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করে। ডিম্বাণু নিজেকে নিষিক্ত করে এবং জরায়ুর দেওয়ালে নিজেকে রোপণ করে। আপনার পিরিয়ডের নির্দিষ্ট দিনের প্রায় দশ দিন আগে আপনি গর্ভবতী হন। এই সময়েই আপনি অবসাদ, বমি ভাব এবং ক্লান্তির মতো প্রাথমিক লক্ষণগুলির সম্মুখীন হন। কিন্তু গর্ভাবস্থার পরীক্ষাটি পিরিয়ড মিস হওয়ার এক বা দুই সপ্তাহের পরেই কেবল সেরা ফলাফল দেয়, কারণ প্রস্রাবে গর্ভাবস্থার হরমোনের মাত্রাকে একটি যুক্তিসঙ্গত মাত্রায় থাকতে হবে।

গর্ভাবস্থার লক্ষণ এবং পর্যায়গুলি সব মহিলাদের মধ্যে একইরকম বলে কখনো শোনা যায়নি। আপনি যে লক্ষণগুলি দেখেন তার কয়েকটি হয়তো কোনো মেডিকেল অবস্থার কারণে হতে পারে যেটির বিষয়ে আপনি অবগত নন। উপরে তালিকাভুক্ত উপসর্গগুলি একটি গর্ভাবস্থাকে নিশ্চিত করবেই এমন নয়। উপরে উল্লিখিত নির্দেশকগুলির প্রতি কেবলমাত্র নজর রাখতে পারেন যদি আপনি একটি পরিবার শুরু করার পরিকল্পনা করেন । এও সম্ভব যে এই লক্ষণগুলির কোনোটিই আপনি দেখলেন না এবং তা স্বত্বেও গর্ভবতী হলেন এবং একটি পুরোপুরি স্বাভাবিক শিশু পেলেন। গর্ভধারণ শুধুমাত্র যখন আপনি পিরিয়ড মিস করেন, বা গর্ভাবস্থার পরীক্ষা কিট দ্বারা এবং সব ক্ষেত্রেই আপনার হেলথ প্র্যাক্টিশনার দ্বারা প্রত্যয়িত রক্ত পরীক্ষা দ্বারা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: