blog

বাচ্চাদের বমির চিকিৎসায় কীছূ ঘরোয়া টোটকা।

শিশুদের বমি করা কোনও রোগ বা অসুস্থতা নয়,বরং এটি কোনও চিকিৎসাগত অবস্থাকেই ইঙ্গিত করে যা থেকে আপনার বাচ্চা ভুগতে পারে।বেশীরভাগ বাচ্চারাই ওষুধ খেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে যখন তারা বার বার বমি করে।এইরকম পরিস্থিতির মধ্যে আপনি কিছু ঘরোয়া প্রতিকার পরিচালনা করতে পারেন বমির উপসর্গগুলির নিরাময় করতে।এখানে নিম্নলিখিত নিবন্ধটিতে শিশুদের বমি বমি ভাব বন্ধ হওয়ার কিছু সহজ ঘরোয়া প্রতিকারগুলি সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব।

শিশুদের বমি হওয়া বন্ধ করতে প্রাকৃতিক প্রতিকার সমূহ

নিম্নে কিছু ঘরোয়া প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার উল্লেখ করা হল,যেগুলি আপনি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন শিশুদের বমি এবং গা–গুলানো নিয়ন্ত্রণ করতেঃ

১. তরল গ্রহণ বৃদ্ধি করুনঃ

বমি আপনার সন্তানকে কাহিল করে দিতে পারে এবং হারিয়ে যাওয়া শক্তি পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম উপায় হল তরল খাদ্য গ্রহণ।বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী কমপক্ষে 12 ঘন্টার জন্য আপনার বাচ্চাকে কঠিণ খাবার খেতে দেওয়া থেকে সংযত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।আপনার সন্তানকে পুনরায় যেকোনও কঠিণ খাবার খাওয়ানো শুরু করার আগে তার হজম প্রক্রিয়াটিকে আবার আগের অবস্থানে আসার সময় দিন।সবজির হালকা স্যুপ,সাধারণ ঝোল এবং আইস ক্রীম হল সেই সকল খাদ্য যেগুলি আপনি আপনার আপনার বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।

২. আদার রস এবং মধু ব্যবহারঃ

গা গুলানো এবং বমি থামাতে আদা ভাল ভাবে কাজ করে।আপনি ছোট এক টুকরো আদা নিয়ে সেটিকে ঘষে নিতে পারেন।ঘষে নেওয়া আদাটিকে চিপে সেটির থেকে রস বের করে নিন এবং এরপর সেটির সাথে কয়েক ফোঁটা মধু যোগ করে রসটিকে সুস্বাদু করে তুলুন।আদা এবং মধু কেবল বমি ও গা গুলানোই নিরাময় করে না এটি কিন্তু আবার হজম প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করে।

৩. পুদিনার রসও সহায়তা করেঃ

তাজা পুদিনা বমি এবং গা গুলানো নিরাময়ে ভীষণভাবে কার্যকর। আপনি কয়েকটি তাজা পুদিনার পাতা নিতে পারেন এবং সেগুলিকে পিষে নেওয়ার পর সেটির থেকে নির্যাস বের করে নিন(1 চামচ)।এবার পুদিনার রসের সাথে 1 চামচ লেবুর রস মেশান।এর স্বাদ বাড়ানোর জন্য আপনি এর সাথে সামান্য মধু যোগ করে নিতে পারেন।অন্যথায়,আপনি আপনার সন্তানকে কয়েকটি তাজা পুদিনা পাতা চিবোতে দিতে পারেন।

৪. দারুচিনি চা ব্যবহার করলে কেমন হয় ?

দারুচিনি পেটকে প্রশমিত এবং শান্ত করতে সাহায্য করে।এটি গা গুলানো এবং বমি থেকে উপশম দেয়।আপনি এক কাপ জলে এক চা–চামচ দারুচিনি গুঁড়ো যোগ করে সেটিকে কয়েক মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিয়ে দারুচিনির চা তৈরী করতে পারেন।এরপর সেটিকে ছেঁকে নিয়ে তার সাথে মধু যোগ করে আপনার সন্তানকে পান করতে দিন তার বমি রোধ করতে।

৫. আপনি আবার ভাতের মাড় বা ফ্যানও দিতে পারেনঃ

গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণে হওয়া বমির চিকিৎসায় ভাতের মাড় সাহায্য করে।ভাতের মাড় প্রস্তুত করার জন্য ব্রাউন রাইসের পরিবর্তে সাদা চাল নেওয়্টাই সবচেয়ে ভাল বিকল্প।আপনি এক কাপ সাদা চাল নিয়ে সেটিকে দু কাপ জলের মধ্যে ফুটান।একবার ভাত রান্না হয়ে গেলে, অতিরিক্ত জল বা ভাতের মাড়কে ঝরিয়ে নিন এবং আপনার বাচ্চার বমি বন্ধ করতে তাকে সেই মাড়টিকে পান করতে দিন।

৬. কিছু এলাচ দানা দিলে কেমন হয় ?

শিশুদের বমির অন্যতম কার্যকর ভারতীয় ঘরোয়া একটি প্রতিকার হল এলাচের দানা।এলাচ দানা আপনার সন্তানের পেটের উপর একটা শান্ত প্রভাব ফেলে এবং এর সাথে এটি আবার গা গুলানো এবং বমি কমাতেও সাহায্য করে।আপনি অর্ধেক চা–চামচ এলাচ দানা নিয়ে সেগুলিকে গুঁড়িয়ে নিতে পারেন।এবার এর সাথে সামান্য চিনি যোগ করে সেই মিশ্রণটিকে আপনার সন্তানকে দিন তাকে বমি থেকে স্বস্তি পেতে।

৭. লবঙ্গ বেশ সহায়ক !

বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া থেকে পরিত্রাণ পেতে লবঙ্গ সত্যি দারুণ কাজ করে এবং এটি আবার হজমের জন্যও খুব ভাল।যদি আপনার বাচ্চা লবঙ্গকে চিবাতে পারে তবে তাকে কয়েকটি লবঙ্গ চিবানোর জন্য দিতে পারেন,অথবা আপনি আবার কিছু লবঙ্গ এক কাপ জলের মধ্যে ফুটিয়ে তার জন্য লবঙ্গের চাও বানিয়ে দিতে পারেন।এবার আপনি সেই লবঙ্গ চা–এর সাথে এক চা–চামচ মধু যোগ করতে পারেন।

৮. মৌরি বীজ ব্যবহার করে দেখুনঃ

শিশুদের বমির জন্য সবচেয়ে কার্যকর অন্যতম একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার হল মৌরি বীজ।মৌরির অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য শিশুদের গা গুলানো এবং বমির নিরাময়ে বিস্ময়কর রূপে কাজ করে।আপনি এক কাপ জলে এক চা–চামচ মৌরি বীজ নিয়ে সেটিকে দশ মিনিটের জন্য ফোটাতে পারেন।এরপর সেটিকে ছেঁকে নিয়ে আপনার বাচ্চাকে দিনে 3-4 বার পান করান।

৯. অ্যাপেল সীডার ভিনিগারও সহায়তা করে !

অ্যাপেল সীডার ভিনিগারের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য গা গুলানো এবং বমি প্রতিরোধে প্রকৃতই ভাল রূপে ক্রিয়াশীল।এই ভিনিগার আবার পেটকে প্রশমিত করতে অত্যন্ত কার্যকরী এবং তার সাথে দেহকে বিষমুক্ত করতেও সাহায্য করে।এক গ্লাস জলের মধ্যে এক চা–চামচ অ্যাপেল সীডার ভিনিগার এবং মধু যোগ করে সেটিকে আপনার বাচ্চাকে সারাদিন ধরে চুমুক দিতে দিন।

১০. পিঁয়াজ এবং আদার রসের সংমিশ্রণ ব্যবহার করুনঃ

পিঁয়াজ হল প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকের সমৃদ্ধ উৎস।আপনি আপনার বাচ্চার বমি হওয়ার ভাবকে পিঁয়াজের রসের সাহায্যে কার্যকর ভাবে নিবৃত্ত করতে পারেন।আপনি সম পরিমাণে পিঁয়াজ এবং আদার রস নিয়ে ভাল ভাবে মিশিয়ে নিতে পারেন।আপনার বাচ্চাকে দিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার এই মিশ্রিত রসটিতে চুমুক দেওয়ান।বিকল্পরূপে,আপনার সন্তানের গা গুলানো এবং বমি কমাতে আপনি পিঁয়াজের রসের সাথে অর্গানিক বা জৈব মধু মেশাতে পারেন।

১১. আপনি আবার তাকে গোটা জিরেও দিয়ে দেখতে পারেনঃ

এই বিস্ময়কর মশলাটি অগ্ন্যাশয় উৎসেচকগুলির নিঃসরণে উদ্দীপ্ত করতে সাহায্য করার মাধ্যমে হজমের সমস্যাগুলির নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকর।আপনার বাচ্চার বমি হওয়ার অস্বস্তি থেকে তাকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে আপনি গোটা জিরে ব্যবহার করতে পারেন।এক চা চামচ গোটা জিরে নিয়ে সেটিকে শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করে নিন।এবার জিরে গুঁড়োকে গরম জলের সাথে মিশিয়ে সেই পাচনটিকে আপনার বাচ্চাকে চুমুক দিতে দিন।আপনি আবার এর সাথে এক চিমটে জায়ফল গুঁড়ো ছিটিয়ে নিতে পারেন।গোটা জিরে খাওয়ানোর অন্য আরেকটি পদ্ধতি হল এই জিরে গুঁড়োটিকে এলাচ গুঁড়ো এবং মধুর সাথে মিশ্রিত করুন।এবার এই মিশ্রিত মশলাটি আপনার বাচ্চাকে ধীরে ধীরে চাটতে দিন।

১২. ক্যামোমাইল চা প্রস্তুত করে তাকে পান করতে দিনঃ

ক্যামোমাইল এর শিতলীকরণ এবং প্রশমনকারী বৈশিষ্ট্যের জন্য সুপরিচিত।এটি বাচ্চাদের বমির ভাবকে দূরে ঠেলে তার শান্তিপূর্ণ ঘুমে সাহায্য করে এবং এটি আবার ভাল ভাবে হজমেও সাহায্য করে থাকে।গরম জলের মধ্যে এক চা–চামচ ক্যামোমাইল ঢেলে দিন এবং তার সাথে কিছুটা মধু যোগ করুন।এই চা–টিকে আপনার ছোট্ট সোনাকে দিনে 2-3 বার খাওয়ান।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: