blog

শিশুদের কান যন্ত্রণার থেকে মুক্তি কার্যকর ঘরোয়া কিছু প্রতিকার।

প্রত্যেকের কাছেই যন্ত্রণা এবং অস্বস্তির একটি সাধারণ কারণ হল কানে ব্যথা।বাচ্চাদের মধ্যে এটি চিন্তার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ বাচ্চারা এতই ছোট যে তারা তাদের সেই ব্যথার কারণটিকেও বলতে পারে না।অতএব,কীভাবে সেই যন্ত্রণার প্রশমিত করা যেতে পারে তা দেখার জন্য অবিলম্বে তত্ত্বাবধান করা দরকার।কানে ব্যথার অনেক কারণ আছে,যেমন সংক্রমণ,ছিদ্রযুক্ত কর্ণপটহ এবং ফোঁড়া।কানে যন্ত্রণার একটি উপযুক্ত প্রতিকার খোঁজার জন্য সেটি হওয়ার সঠিক কারণটিকে চিহ্নিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাচ্চাদের কানে ব্যথার জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকারসমূহ-

১। উষ্ণ কম্প্রেসঃ– ব্যথা কমাতে কান এবং ঘাড়ের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কম্প্রেস করার জন্য একটি উষ্ণ তোয়ালে ব্যবহার করুন।একটি গরম চাটু অথবা একটি গরম ইস্তিরির উপর একটি শুকনো তোয়ালেকে ভাঁজ করে নিয়ে সেটিকে চেপে চেপে গরম করে নিতে পারেন।হিটিং প্যাড অথবা ছোট একটি প্লাস্টিকের বোতলে উষ্ণ জল ভরে নিয়ে সেটিকেও ব্যবহার করা যেতে পারে।এক্ষেত্রে কানে খুব সুড়সুড় করতে পারে যে কারণে আপনার বাচ্চার মধ্যে অস্বস্তিবোধ হতে দেখতে পারেন।সেক্ষেত্রে কখনই রেগে যাবেন না বা বিরক্ত হয়ে উঠবেন না বরং এটি করার মধ্যে তার সাথে স্থিরভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন যাতে এটি করার সময় বাচ্চাটি এর মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

২। ঠাণ্ডা কম্প্রেসঃ- যদি উষ্ণ কম্প্রেস এক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে না ওঠে,তবে এর পরিবর্তে ঠাণ্ডা কম্প্রেস ব্যবহার করুন।সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং আপনার বাচ্চার ত্বকের উপর সরাসরি বরফ রাখার ব্যাপারটিকে এড়িয়ে চলুন,কারণ এটি রক্ত প্রাবাহকে থামিয়ে দিতে পারে।বরফের টুকরোগুলিকে একটি ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগের মধ্যে রাখা যেতে পারে অথবা সেগুলিকে একটি তোয়ালের মধ্যে মুড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঠাণ্ডায় জমিয়ে রাখা একটি দুধের প্যাকেটও খুব ভাল কাজ করতে পারে।যদি আপনাকে বরফ আনার জন্য বাইরে ছুটতে হয়,তবে সেক্ষেত্রে একটি ছোট প্লাস্টিকের বোতলের মধ্যে ঠাণ্ডা জল পূর্ণ করে নিন এবং আপনার ছোট্ট সোনার যন্ত্রণাকে লাঘব করতে সেটিকে ব্যবহার করতে পারেন।
৩। তুলসী পাতাঃ- এই সাধারণ এবং সুলভ প্রতিকারটিকে সর্বদা হাতের মুঠোয় রাখা জরুরী।অদ্ব্যর্থক ঔষধি বৈশিষ্ট্যের জন্য তুলসী সুপরিচিত।কয়েকটি তুলসী পাতা ছিঁড়ে নিয়ে সেগুলিকে চূর্ণ করে তার নির্যাস বের করে নিন এবং তার থেকে কয়েক ফোঁটা কানের ভিতরে দিন।
৪। অলিভ অয়েল বা জলপাই তেলঃ- শিশুদের মধ্যে হয়ে থাকা কানের সংক্রমণের চিকিৎসায় জলপাই তেল হল অন্যতম একটি কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিকার।একটি পরিষ্কার পাত্রে অথবা মাইক্রোওয়েভের মধ্যে খুব সামান্য পরিমাণ জলপাই তেল নিয়ে দেহের তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত সেটিকে গরম করুন।একটি পরিষ্কার ইয়ারবাড দিয়ে সেই তেলটিকে কানের ভিতর প্রভাবিত এলাকায় এবং তার চারপাশে হালকা করে প্রয়োগ করুন।প্রয়োগিত এলাকা থেকে আশেপাশের অঞ্চলে অতিরিক্ত তেলের ফোঁটা ঝরে পড়া এড়াতে আপনি তোয়ালে ব্যবহার করা নিশ্চিত করুন।
৫। রসুনঃ- দু কোয়া রসুনকে থেঁতো করে নিয়ে সেটিকে কিছুটা তিল/জলপাই তেলের সাথে গরম করুন।এবার একটি পরিষ্কার কাপড়ের সাহায্যে তেলটিকে ছেঁকে নিন এবং এই রসুন তেলটিকে কানের ভিতরে প্রভাবিত এলাকায় এবং তার চারপাশের অঞ্চলে প্রয়োগ করুন।
৬। ইউক্যালিপটাস তেল এবং ঔষধি তুলোর বলঃ- একটি তুলোর বলের উপর কয়েক ফোঁটা মিশ্রিত ইউক্যালিপটাস তেল ঢেলে নিন এবং যন্ত্রণার উপশম করতে সংক্রামিত কানের উপর সেটির প্রলেপ দিয়ে দিন।যতদিন না যন্ত্রণাটি পুরপুরি সেরে ওঠে প্রতিদিন এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করুন।
৭। সরষের তেলঃ- বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই,গড়ে ওঠা কানের খৈল জমে যাওয়াকে এড়াতে কান থেকে অতিরিক্ত কানের খৈলগুলি স্বাভাবিকভাবেই বহিষ্কার হয়ে যায়।তবে,যখন এটি হয় না,তখন কানের খৈলগুলি জমে শক্ত হয়ে উঠতে পারে।এই কারণে কানের মধ্যে একটা বাঁধার সৃষ্টি হতে পারে এবং তার ফলে কানের ভিতরে একটি সংক্রমণ হয়ে থাকে।এই বাঁধাটিকে হ্রাস করতে ঈষদুষ্ণ কয়েক ফোঁটা সরষের তেল নিয়ে সংক্রামিত কানের মধ্যে দিন;এক সপ্তাহের জন্য এই প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যান।কান মধ্যস্থ কিছু নরম খৈল নিজে থেকেই বেরিয়ে আসবে এবং অবশিষ্ট খৈলগুলিকে অপসারিত করার জন্য আরও বেশী তেল ব্যবহার করতে হতে পারে।সরষের তেল কানের খৈল এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বহিরাগত বস্তুগুলিকে কানের ভিতর থেকে অপসারণের দ্বারা সংক্রামিত এলাকাকে পরিষ্কার করে।আপনি আবার কানের ভিতরের অংশ পরিদর্শন করার জন্য একটি ছোট টর্চলাইট ব্যবহার করতে পারেন এবং সেটি দিয়ে দেখুন যে কানের ভিতরের অংশটি সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়েছে কিনা।কানের খৈল বহিষ্কার করার জন্য আপনি নিম্বলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করতে পারেনঃ
  • প্রভাবিত কানের ভিতরে সামান্য পরিমাণে সরষের তেল ঢালুন
  • কয়েক মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন
  • একটি টিস্যু পেপার দিয়ে আপনার কানটিকে ঢেকে দিন
  • তরলটিকে অপসারিত করতে আপনার মাথাকে কাত করুন।

৮। বুকের দুধঃ- স্তন পান করানো মায়েদের জন্য এটি একটি ভাল বিকল্প।সংক্রামিত কানের মধ্যে কয়েক ফোঁটা বুকের দুধ দিন।এটি একদম ছোট বাচ্চাদের কানের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য একটি সুপরিচিত প্রতিকার কারণ এতে অ্যান্টিবডি থাকে।কোনও ময়লা পাত্রে দুধ সংগ্রহ করার কারণে সেটি যাতে সংক্রামিত না হয়ে ওঠে সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।এছাড়াও আবার স্তন থেকে সরাসরি কানের ভিতরে সেটিকে পরিচালিত করা উচিত নয় কারণ একটি ছোট শিশুর পক্ষে তার কানের ভিতর সেই চাপ নেওয়া অত্যধিক হয়ে উঠবে।সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত হল একটি পরিষ্কার পাত্রে বুকের দুধটি সংগ্রহ করুন এবং ইয়ার ড্রপার ব্যবহ্যার করুন।

৯। লবণঃ- ছোট বাচ্চাদের কানের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য মোটা দানার লবণকে একটি ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।এক কাপ মোটা দানার লবণকে এক মিনিটের জন্য মাইক্রোওভেনের মধ্যে গরম করে নিন।এটিকে মিশিয়ে নিন এবং আরও এক মিনিটের জন্য সেটিকে পুনরায় গরম করুন।এবার এটিকে একটি সুতির মোজার মধ্যে রাখা যেতে পারে এবং মোজার খোলা মুখটিকে বেঁধে দিন।10 মিনিটের জন্য সংক্রামিত কানের উপর এটিকে রাখুন এবং প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তি করুন।
১০। চা–গাছের তেলঃ- ছোট শিশুদের কান ব্যথার চিকিৎসায় চা–গাছের তেলটিও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।জলপাই তেলের সাথে কিছুটা চা–গাছের তেল মিশ্রিত করে কিছুটা হালকা করে নিন এবং দেহের তাপমাত্রায় না আসা পর্যন্ত সেটিকে গরম করে নিন।একটি পরিষ্কার ড্রপারের সাহায্যে দু‘টি কানে্র প্রতিটিতেই কয়েক ফোঁটা করে সেটি দিন।প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে করুন এবং শক্তি প্রয়োগ করবেন না যেহেতু কান অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঙ্গাণু।

সাধারণত কান ব্যথা হল একটা ব্যাধি অপেক্ষা বেশী উপসর্গ।শিশুদের মধ্যে এই যন্ত্রণা হওয়ার মূল কারণ হল ঠাণ্ডা লাগা,জ্বর হওয়া এবং রক্ত জমাট বাঁধা।উপরে উল্লিখিত প্রক্রিয়াগুলি হল তা থেকে দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার কয়েকটি সাধারণ ঘরোয়া প্রতিকার,কিন্তু এটির কারণটিকে চিহ্নিত করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।উল্লিখিত প্রতিকারগুলি এক্ষেত্রে বেশ ভালভাবেই কাজ করে এবং এছাড়াও তৎক্ষণাৎ স্বস্তি প্রদানও করতে পারে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


%d bloggers like this: