blog

আপনারা কি জানেন গর্ভাবস্থায় কেক খাওয়া নিরাপদ কি না?

বেশিরভাগ মহিলার গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক খাবারের অভ্যাস থাকে। এই লালসাগুলি কিছু মশলাদার খাবার থেকে শুরু খাবার অযোগ্য বা খাদ্য নয় এমন কিছু খাবার থেকে মিষ্টি খাবারের প্রতি অপ্রতিরোধ্য লালসা পর্যন্ত হতে পারে। আপনি যদি মিষ্টি খেতে আগ্রহী হন তবে কোনো কোনো সময় আপনি কেক বা পেস্ট্রি খেতে প্ররোচিত হবেন।

কেক–কে না বলা কঠিন, তবে আপনার গর্ভাবস্থায় কি সেগুলি খাওয়া উচিত? জানতে এই নিবন্ধটি পড়ুন।

কোনো গর্ভবতী মহিলা কি কেক খেতে পারেন?

গর্ভাবস্থায় আপনি মাঝে মধ্যে কেকের একটি টুকরো খেতে পারেন, কারণ এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া আপনার বা আপনার সন্তানের ক্ষতি করবে না। তবে গর্ভাবস্থায় আপনার অত্যাধিক পরিমাণে কেক বা অন্য কোনো মিষ্টি খাবার খাওয়া অবশ্যই এড়ানো উচিত, কারণ এটি আপনার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গর্ভবতী অবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবার হিসাবে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া নিশ্চিত করবে যে আপনার বাচ্চা তার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি পেয়েছে। সকালের অসুস্থতাগুলিও আপনার শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আপনার অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে। এক একবার মাঝে মধ্যে কেক খাওয়া ভাল, তবে অতিরিক্ত খাবেন না। কেকগুলিতে পুষ্টির কোনো মূল্য থাকে না এবং অল্প সময়ের জন্য ক্ষুধা মেটায়। এগুলিতে খালি ক্যালোরি, পরিশোধিত চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং এগুলি এড়ানোই সেরা।

গর্ভাবস্থায় আপনার কেক খাওয়া উচিত নয় কেন?
১। কেকগুলিতে ব্যাকটিরিয়া থাকতে পারেঃ-

গর্ভবতী হওয়ার সময়, আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হবে, তাই আপনাকে অবশ্যই এমন কোনো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যা সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এমনকি কেকটি ঘরে তৈরি হলেও, এতে সালমনোলা, ই–কোলি, টক্সোপ্লাজমা এবং আরও অনেকগুলি ব্যাকটেরিয়া থাকার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই ব্যাকটেরিয়াগুলির কোনোটি আপনার শরীরে প্রবেশ করে তবে এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। কেক কখনো কখনো ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি প্রজনন ক্ষেত্র গঠন করতে পারেন। তাই গর্ভাবস্থায় আপনার অবশ্যই কেক খাওয়া এড়ানো উচিত।

২। কেক খাওয়ার ফলে অস্বাস্থ্যকর ওজন বাড়তে পারেঃ- হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় আপনার ওজন বাড়ানো দরকার, তবে স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার থেকে ওজন বাড়ানো উচিত। কেক, পেস্ট্রি বা অন্যান্য জাঙ্ক ফুড খাওয়া আপনাকে খালি ক্যালোরি সরবরাহ করবে যা গর্ভাবস্থায় অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত ওজন বাড়িয়ে তুলবে এবং আপনার গর্ভাবস্থার যাত্রাকে জটিল করে তুলবে, তাই এগুলি এড়ানো উচিত। আপনি আপনার বেবি শাওয়ার বা সাধে পরিবেশন করা চকোলেট বা কেকের এক টুকরো উপভোগ করতে পারেন, তবে দ্বিতীয় টুকরো খাওয়া লোভকে প্রতিহত করুন। এছাড়াও, যে কেকগুলিতে স্যাকারিন রয়েছে তা এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি প্লাসেন্টার মধ্যে যেতে পারে এবং ভ্রূণকে প্রভাবিত করতে পারে। স্বাস্থ্যকর ডায়েট বজায় রাখুন – এমন খাবার খান যা স্বাস্থ্যকর ওজন বাড়ায় এবং আপনার শিশুর বিকাশের জন্য অবদান রাখে।

৩। কেকগুলিতে অ্যালকোহল থাকতে পারেঃ- কিছু কেকের মধ্যে রমের মতো অ্যালকোহল থাকতে পারে যা আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। যদিও এটি বিশ্বাস করা হয় যে রান্না করার পদ্ধতি কেকের মধ্যে থাকা কোনো অ্যালকোহল সামগ্রীকে নষ্ট করে, তবে এটি সম্পূর্ণ সত্যি নয়। অ্যালকোহল কেকের স্বাদ বাড়ায়, তবে এটি প্লাসেন্টার মধ্যে দিয়ে যেতে পারে এবং শিশুর জটিলতার কারণ হতে পারে। এর ফলে অকাল প্রসব এবং হিশুর জন্মগত ত্রুটিগুলি হতে পারে, তাই আপনি যদি এক টুকরো কেক খাওয়ার পরিকল্পনা করছেন যাতে অ্যালকোহল রয়েছে, তবে আপনার শিশুর কথা চিন্তা করুন এবং এর প্রলোভনে পড়বেন না।

যে কেকগুলি আপনি গর্ভাবস্থায় চেষ্টা করতে পারেন-
১। অ্যাঞ্জেল ফুড কেকঃ- এঞ্জেল ফুড কেকগুলিতে কোনো ফ্যাটযুক্ত উপাদান থাকে না এবং এটি আপনার মিষ্টি খাওয়ার লোভ পূরণ করতে পারে। এই কেকটি মাখনের পরিবর্তে ফেটানো ডিমের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি করা হয়। এটিতে একটি হালকা, ফাঁপা টেক্সচার তাহকে, তাই এটি সংযমের মধ্যে খাওয়ার কোন ক্ষতি নেই। তবে আপনি যদি অতিরিক্ত মিষ্টি যুক্ত করেন তবে এটি ক্ষতিকারক হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে। দ্রষ্টব্য: আপনার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে এই কেকটি এড়িয়ে চলুন।
২। ডার্ক চকোলেট কেকঃ- ডার্ক চকোলেট এবং অতিরিক্ত মিষ্টি ছাড়া কোকোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা গর্ভাবস্থায় আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তাই আপনি গর্ভবতী অবস্থায় এই কেকের এক বা দুটি টুকরো খেতে পারেন। তবে, নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি যে কেক কিনেছেন বা বানাচ্ছেন তার মধ্যে কোনো অ্যালকোহল নেই।
৩। ইয়োগারট কেকঃ- দই বা ইয়োগারট একজন গর্ভবতী মহিলার ডায়েটের একটি অপরিহার্য অঙ্গ, কারণ এতে ডায়েটরি ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভাল ব্যাকটিরিয়া রয়েছে, যা হজমক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। আপনি ইয়োগারট ব্যবহার করে একটি কেক তৈরি করতে পারেন। তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে এটি তৈরি করার পর খুব দ্রুত খাওয়া হচ্ছে, যেহেতু দই বা ইয়োগারট খুব শীঘ্রই নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং ব্যাকটিরিয়ার প্রজনন স্থানে পরিণত হতে পারে। এছাড়াও, আপনার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (জিডিএম) থাকলে এটি এড়ানো উচিত।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *