blog

শিশুদের সর্বোত্তম উচ্চতা অর্জনের জন্য কিছু টিপস।

শিশুদের সর্বোত্তম উচ্চতা অর্জনে সহায়তা করা, পিতামাতাদের প্রায়ই একটি বড় উদ্বেগের কারণ, এবং আমাদের অধিকাংশ উপলব্ধি  করি না বাচ্চাদের উপর একটি খারাপ প্রভাব পরে। যদিও কম উচ্চতা হওয়ার মধ্যে অবশ্যই কোনও অসুবিধা নেই, কিন্তু সহপাঠীদের চাপের সাথে মোকাবিলা করা বাচ্চাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে যারা তাদের সমসাময়িকদের মতো উচ্চতা পায় না। অনেক সময়, বাচ্চারা যারা তুলনামূলকভাবে বেঁটে, তাদেরকে স্কুলে ঠাট্টা করা হয় বা তর্জন-গর্জন করে শাসানো হয়, এবং এটি তাদের ভীত করে তোলে ও তাদের আত্মবিশ্বাসকেও প্রভাবিত করে।

এখানে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে উচ্চতা সাধারণত জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। যাইহোক, অধ্যয়নে দেখা গেছে যে খাবারের মতো বাহ্যিক কারণগুলিও একটি পার্থক্য তৈরি করতে পারে এবং বেড়ে ওঠার বছরগুলিতে একজন ব্যক্তির উচ্চতাকে প্রভাবিত করতে পারে। উচ্চতার জন্য তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারণকারী উপাদান হল জিন, খাদ্য এবং জীবনধারা। আপনি আপনার বাচ্চাদের কাছে প্রেরিত জেনেটিক গঠনটি পরিবর্তন করতে পারবেন না, তবে অন্য দুটি কারণগুলির যত্ন নেওয়া হচ্ছে কি না তার খেয়াল রাখতে পারেন- আপনার সন্তানের বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং জীবনধারা রয়েছে কি না। অপর্যাপ্ত পুষ্টি কোনও শিশুর বৃদ্ধিকে কম করে দিতে পারে, যতই শক্তিশালী জিন হোক না কেনো।

খাদ্য এবং শিশুদের উচ্চতা:- আপনি এবং আপনার সঙ্গী লম্বা হলে, আপনার সন্তানের লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং কম লম্বা বাবা-মায়েরও সেই একই ব্যাপার কিন্তু অনেক বাবা-মা জানে না যে তাদের বাচ্চাদের তাদের পূর্ণ উচ্চতায় বেড়ে উঠতে সক্ষম করা তাদেরই  হাতে, যা তাদের জিনগতভাবে নির্ধারিত উচ্চতার তুলনায় বেশি হতে পারে, যদি শিশুদের মধ্যে উচ্চতা বাড়ানোর প্রস্তাবিত খাদ্য অনুসরণ করা হয়। এটি একটি নাটকীয় পার্থক্য তৈরি করতে না পারলেও বাচ্চার পূর্বনির্ধারিত উচ্চতা থেকে কয়েক ইঞ্চি বেশি লাভ করতে পারবে।

একটি শিশু জন্মের পরে প্রায় অবিলম্বে বাড়তে শুরু করে। এটি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে 19 বছর বয়সে মহিলারা তাদের পূর্ণ উচ্চতায় পৌঁছে যান এবং পুরুষ প্রায় 25 বছর পর্যন্ত বেড়ে উঠতে পারেন। আমাদের দেহে, এটি প্রধানত পিটুইটারি গ্রন্থি যা আমাদের উচ্চতা নির্ধারণে সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে। পিটুইটারি গ্রন্থি হিউম্যান গ্রোথ হরমোন (HGH) ক্ষরণ করে যা উচ্চতার বৃদ্ধির জন্য দায়ী। শিশুর বৃদ্ধির জন্য অনেক ধরনের খাবার আছে যা হিউম্যান গ্রোথ হরমোনের কার্যকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে যাতে কেউ তার বৃদ্ধির বয়সগুলিতে সর্বোচ্চ উচ্চতা অর্জন করতে পারে।

উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য যে সব পুষ্টি কাজে লাগেঃ-

১। প্রোটিনঃ- বাচ্চাদের উচ্চতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যতালিকাগত উপাদানগুলির মধ্যে একটি। প্রোটিন শরীরের পেশী এবং টিস্যুর নির্মাণ, বিকাশ ও বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। প্রোটিনের অভাবে বৃদ্ধি হ্রাস বা অস্বাভাবিক হতে পারে এমনকি মাংসপেশির পরিমাণ কম হতে পারে। অতএব, বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখা উচিত যে শিশুর খাদ্য যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ হয়।
২। খনিজ পদার্থঃ- শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য খাদ্যে কিছু খনিজ পদার্থ অপরিহার্য। লোহা, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন, ম্যাঙ্গানিজ এবং ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ খাবারগুলি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের বেড়ে ওঠার সহায়ক বলে পরিচিত। ক্যালসিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কেবল বেড়ে ওঠায় সাহায্য করে না বরং হাড়গুলিকে শক্তিশালী করে তোলে।
৩। শর্করাঃ- শর্করাকে ক্ষতিকারক বলে মনে করা হয়, কিন্তু তারা আসলে বাচ্চাদের উচ্চতা বৃদ্ধির  জন্য  খাদ্যতালিকার  মধ্যে অপরিহার্য। শর্করা শরীরকে, বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে শক্তি দেয়। এটা বলার মানে, আপনার সন্তানের খাদ্যে পুষ্টিকর শর্করাটি আছে কিনা সে বিষয় অবশ্যই আপনার সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তারা যে শর্করাগুলি খাবে তা গম এবং সিরিয়ালের মতো গোটা খাদ্যশস্যের থেকে হওয়া উচিত। পরিশোধিত ময়দা দ্বারা প্রস্তুত খাদ্য যেমন পিৎজা, বার্গার এবং সাদা পাউরুটিতে এমন ধরনের শর্করা থাকে যা ক্ষতিকর হতে পারে।
৪। ভিটামিনঃ- হাড়ের স্বাস্থ্য এবং উচ্চতা বাড়াতে, ভিটামিন ডি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ, এটি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে শুধুমাত্র হাড় দূর্বল হয় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয় তাই নয় বরং উচ্চতার উপর বাজে প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া, বাচ্চাদের ভালো বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অন্য ভিটামিনগুলি হল ভিটামিন এ, ভিটামিন বি1, ভিটামিন বি2, ভিটামিন সি, রাইবোফ্ল্যাভিন, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন এ। ভিটামিন সমৃদ্ধ সবজি এবং ফল একটি সুস্থ, সুষম খাদ্যের মধ্যে অপরিহার্য।

উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য যে সব খাবারের খুব দরকার-

১। দুগ্ধজাত পণ্যঃ- দুগ্ধ, কটেজ পনির এবং দইয়ের মতো দুগ্ধজাত দ্রব্যগুলিতে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন এ, বি, ডি এবং ই-র মতো অপরিহার্য খনিজগুলির পরিমাণ উচ্চ। দুধ প্রোটিনের একটি ভাল উৎস , যা শরীরের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রতিদিন  একটি বড় গ্লাস দুধ ছাড়া কোন শিশুর খাদ্য সম্পূর্ণ নয়! য়োগার্ট-ও খুব ভালো।

২। ডিমঃ- প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি12 এবং রাইবোফ্ল্যাভিনের পরিমাণ উচ্চ, আপনি যদি তাদের উচ্চতা বৃদ্ধি করতে চান তবে আপনার সন্তানের খাদ্যে ডিম সংযোজন করা অতিরিক্ত প্রয়োজনীয়। ডিমের সাদা অংশ (বা অ্যালবুমিন) হল 100% প্রোটিন। সুতরাং, আপনি যদি চর্বি দূরে রাখতে চান, তাহলে আপনি তাদের  ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে  শুধুমাত্র সাদা অংশটি খাওয়াতে পারেন। ডিম সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হল যে তাকে  বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা যায় যাতে আপনার সন্তান  বিরক্ত  না হয়ে প্রতিদিন খেতে পারে! সুসিদ্ধ ডিম থেকে সুস্বাদু প্যানকেক পর্যন্ত, ডিম রান্না করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে।

৩। মুরগির মাংসঃ- মুরগির মাংসও ডিমের মত উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ; বলা ভাল, এটি প্রাণীজ খাবারের মধ্যে সর্বাধিক প্রোটিন-সমৃদ্ধ। মুরগির মাংস আপনার সন্তানের টিস্যু এবং পেশীগুলি তৈরি করতে সহায়তা করে যা তার উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য সাহায্য করে।

৪। সোয়াবিনঃ- এটি আর একটি পুষ্টিকর খাবার যার কখনো যথার্থ মূল্য দেওয়া হয় না, কিন্তু এটি আপনার সন্তানের স্বাস্থ্য এবং উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।এটি প্রোটিন, ফোলেট, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার সমৃদ্ধ এবং নিরামিষ প্রোটিন বিকল্প সন্ধানকারীদের জন্য এটি একটি ভাল বিকল্প। সোয়াবিন থেকে তৈরি তোফুও উপকারী।

৫। কলাঃ- পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ক্যালসিয়ামে ভরপুর, কলা একটি সাধারণ নরম ফল যা আসলে আপনার সন্তানকে স্বাস্থ্যবান করে তুলতে সহায়তা করে।

৬। ওটমিলঃ- সোয়াবিনের মতো, ওটমিলেও ভরপুর প্রোটিন থাকে। এটি শরীরের উচ্চতা এবং পেশী বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পছন্দের খাবার। এটি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর জলখাবারের বিকল্প তাতে কোনো সন্দেহ নেই ।

৭। বাদাম এবং বিজঃ- বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবার আপনার বাচ্চার বাড়ন্ত বয়সের পক্ষে দুর্দান্ত। বাদাম এবং বীজ  জাতীয় খাদ্য খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন এবং সেইসাথে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অ্যামিনো অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। আপনি সেগুলি ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালে বা অন্যান্য ব্রেকফাস্ট পদে যোগ করতে পারেন বা একটি স্ন্যাক হিসাবেও আপনার শিশুদের দিতে পারেন।

৮। সবুজ সবজিঃ- বাচ্চারা খাবারে সবজি দেখে মুখভঙ্গি করতে পারে, কিন্তু সেগুলি তাদের জন্য কতটা ভালো তা আপনি জানেন! ব্রোকলি, পালংশাক, মটরশুঁটি, ঢেঁড়শ ও ব্রাসেল স্প্রাউটের মতো সবুজ সবজি সমস্ত প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ, ভিটামিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। এই সব উপাদান সামগ্রিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অপরিহার্য। সবুজ সবজি তাদের খাদ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, তারা এইগুলি না খাওয়ার জন্য যতই অজুহাত দিক না কেন।

৯। ফলঃ- তাজা, মরশুমি ফল খাওয়াও আপনার সন্তানের জন্য ভাল। সেগুলি এতটাই ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার সমৃদ্ধ যে, কোনও শিশুর খাদ্য সেগুলি ছাড়া অসম্পূর্ণ। সুতরাং, নিশ্চিতভাবে আপনার সন্তানকে সব ধরণের ফল খাওয়ান, বিশেষ করে ভিটামিন সি এবং এ সমৃদ্ধ ফলগুলি যেমন পেঁপে, কমলালেবু, তরমুজ, আম, আপেল ও অ্যাপ্রিকট।

১০। মাছঃ- আরেকটি আমিষ বিকল্প, মাছ প্রোটিন এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ, যা হাড় ও পেশীর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।

 যে সব জিনিস এড়িয়ে যাওয়া উচিৎঃ-

  1. আপনার সন্তানের যেন নিয়মিত ঘুমের রুটিন থাকে তা নিশ্চিত করা উচিত। দশ থেকে বারো ঘন্টার ঘুম আদর্শ। প্রতিদিন ঘুমানোর  সময় এবং ঘুম থেকে ওঠার সময় একই থাকলে স্বাস্থ্যের যেমন উন্নতি হয়, আবার শৃঙ্খলাবদ্ধ হতেও সাহায্য করে।
  2. আপনার সন্তানকে চুপচাপ বসে থাকার পরিবর্তে ব্যায়াম এবং খেলাধুলা করতে উৎসাহিত করুন। প্রতিদিন কিছু কার্যকলাপ বা বাইরে খেলাধুলা তাদের জন্য খুব ভালো, এতে তারা শুধুমাত্র সূর্য থেকে অপরিহার্য ভিটামিনই পায় না, এতে তাদের পেশীগুলোরও ব্যায়াম হয়। যদি সম্ভব হয়, আপনার সন্তানের সাথে কিছু মজার আউটডোর ক্রিয়াকলাপে ব্যস্ত থাকুন যা আপনারা দুজনেই উপভোগ করতে পারবেন, এবং এর জন্য নিজেদের মধ্যে বন্ধন তৈরি  হবে।
  3. সাঁতারের মত ব্যায়াম, লাফানো (যেমন বাস্কেটবল), সূর্য নমস্কারের মত কিছু যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং, স্কিপিং এবং জগিং জীবনের সঠিক সময়ে করা হলে তা আপনার বাচ্চার উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে সাহায্য করতে পারে। মনে রাখবেন, এগুলি তখনই ভালো কাজ করবে যখন সম্পূরক হিসেবে সুষম ডায়েট আর সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখা হবে।
  4. আপনার সন্তানের সুস্থ জীবনধারার প্রতি যত্নবান হন। পরিবার হিসাবে আপনারা যে জীবনধারা বজায় রাখেন তা সত্যিই আপনার সন্তানের স্বাস্থ্য এবং উচ্চতার বিকাশে সাহায্য করতে পারে। আপনার সন্তানের জাঙ্ক ফুড খাওয়া বন্ধ করুন এবং নিশ্চিত করুন যে সে বাড়িতে রান্না করা খাবার উপভোগ করে, এতে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে খাদ্যটি সব দিক দিয়ে সুষম।
  5. আপনার সন্তানের স্বাস্থ্য এবং অনাক্রম্যতা বাড়ানোর জন্য আপনার ডাক্তারকে কিছু ভাল সম্পূরক সুপারিশ করতে বলুন। ভিটামিন এবং খনিজের সম্পূরকগুলি আপনার সন্তানের শরীরে পুষ্টির ভালো ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। কিন্তু এটা শুধুমাত্র একজন ডাক্তারের সুপারিশেই করা উচিত। শিশুদের জন্য ‘উচ্চতা বৃদ্ধিকারী’ হিসাবে বিক্রি হওয়া ওভার-দ্য কাউন্টার পণ্যগুলি কাজ করতে নাও পারে। প্রথমে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে এগুলো বাচ্চাদের দেওয়া বন্ধ করুন।

শিশুদের উচ্চতা প্রধানত জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। এবং এখানে কোনও ম্যাজিক থাকে না যা আপনার সন্তানের উচ্চতা রাতারাতি বাড়িয়ে তুলতে পারে, আপনার সন্তানের জন্য একটি ভাল ডায়েট এবং জীবনধারা তার উচ্চতা বৃদ্ধিতে অনেকাংশে সাহায্য করতে পারে তদুপরি, সুস্থ ও সুষম খাদ্যের অন্যান্য সুবিধাও রয়েছে যেমন সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা ও বিকাশ বৃদ্ধি করা।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *